বগুড়া প্রতিনিধি : আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য পৌরনির্বাচনে বগুড়া জেলার সবকটি পৌরসভায় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী দেবে জামায়াতে ইসলামী। এক্ষেত্রে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার কোনো ইচ্ছা নেই তাদের।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে দলের নিবন্ধন বাতিল করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা। স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন দলের প্রাথমিক এ সিদ্ধান্তের কথা।
সূত্রমতে, বগুড়ায় জামায়াত-শিবিরের শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশই জেলখানায় বন্দী। যারা বাইরে আছেন তারাও ফেরারী। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অত্যন্ত গোপনে চলছে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড। ইসি থেকে দলের নিবন্ধন বাতিল করায় দলীয় প্রতীক দাঁড়ীপাল্লা নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে না জামায়াত। দলের এই কঠিন সময়েও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলার অর্ধেক উপজেলায় দল সমর্থিত চেয়ারম্যান এবং অর্ধেকেরও বেশি সংখ্যক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ায় পৌরসভা নির্বাচনে আগ্রহী হয়েছে জামায়াত।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রমতে, আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য পৌরসভা নির্বাচনে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া ও তালোড়া ছাড়া বাকি সব পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা জামায়াতের একাধিক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বগুড়া পৌরসভাসহ জেলার সবকটি পৌরসভায় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত। তাদের মতে, সরকারের ধারাবাহিক ব্যর্থতা, জামায়াত-শিবিরের ওপর সরকারের জুলুম-নিপীড়ন আর রাজপথে সাহসী ভূমিকার কারণে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মতই পৌরসভা নির্বাচনেও জামায়াত বিপুল জনসমর্থন পাবে। তাছাড়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল জামায়াতের বিজয়কে ত্বরান্বিত করবে বলেও তারা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৩ মার্চ জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজবকে কেন্দ্র করে বগুড়ায় যে সহিংসতা হয়েছিল সেই অভিযোগে প্রায় দুই শতাধিক মামলায় জামায়াত-শিবিরের আড়াই লক্ষাধিক নেতাকর্মি আসামি হয়। গ্রেপ্তার হন দুই হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী। এই অবস্থায় বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজিত করে জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ৫টিতে চেয়ারম্যান ও ৮টিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয় জামায়াত।

