ঢাকাWednesday , 21 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দলীয় প্রতীকে নির্বাচন : টেনশনে ক্ষমতাসীন দল

Link Copied!

sembolনিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদের আদলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও দলীয় প্রতীকে করার আইন সংশোধন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে এ নির্বাচনে কার লাভ, কার ক্ষতি হবে এমন প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণও। এমনকি দুশ্চিন্তায় খোদ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও। দলটির অনেকেই মনে করছেন, প্রতীক ছাড়া দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করা যতটা সহজ ছিল এখন ততটাই কঠিন হতে পারে। বিরোধী দলও এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, এ বছরের ডিসেম্বর থেকেই শুরু হবে সারাদেশে পৌরসভা নির্বাচন। এরপরই শুরু হবে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। তাই পৌরসভা ও ইউপি এ দু’টি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ক্ষমতাসীন দলের দুশ্চিন্তা ততই বাড়ছে। আওয়ামী লীগের প্রধা্ন সমস্যা, তৃণমূলে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি। এতে তৃণমূলে বাড়ছে কোন্দল। আর এই সুযোগে বিরোধী দলগুলো তাদের আখের গুছিয়ে নিতে পারে বলেও মনে করছেন দলটির নেতারা।
জানা গেছে, তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতাদেরই নির্বাচনে সমর্থন দেবে আওয়ামী লীগ। এতে করে দ্বিতীয় সারির নেতারা পড়েছেন বিপাকে। ক্ষোভ বাড়ছে তাদের মধ্যেও। তাই লাভ-ক্ষতির অংক কষছে ক্ষমতাসীন দল।
এদিকে স্থানীয় নির্বাচন সম্পর্কে দলীয় টিম ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি জরিপ চলছে। ওই জরিপের মাধ্যমেই উঠে আসবে আসন্ন পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে লাভ-ক্ষতির হিসাব। তবে নির্বাচনে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠক করে প্রার্থী সমর্থন দেয়ার বিষটি চূড়ান্ত করবে বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা মনে করেন, এমননিতেই ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছে আওয়ামী লীগের নেতারা। প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠা করতে বিভিন্ন স্থানে ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আর এসবের অধিকাংশই ঘটছে তৃণমূলে। এর প্রভাব পড়ছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগেও। তাই লাভ-ক্ষতির হিসাব করতেই হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগামী ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ২৫০টি পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপর ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে তার কাজ শুরু করেছে।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দেশের জেলা-উপজেলায় পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক দলটির একাধিক প্রার্থী। নির্বাচনে যারা প্রার্থী হতে চান তাদের কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। কিন্তু নির্বাচনে দল-সমর্থিত প্রার্থী হতে পারবেন মাত্র একজন। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসবে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মাত্রা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্ল্যাহ বলেন, ‘দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি বলে মনে হচ্ছে। আগে যে কোনো প্রতীকে নির্বাচন করলে সহজেই জিতে আসা সম্ভব হতো। কিন্তু দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের ফলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরো বাড়বে। সবাই নির্বাচন করতে চাইবে। দল তো আর সবাইকে সমর্থন দিতে পারবে না। এর প্রভাব পড়বে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে। তবে আশা করছি আমরা এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের পেছনে মূল কারণ আসন্ন পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচন। এ ছাড়া সারাদেশে আধিপত্য বিস্তারের মানসিকতাও নেতাকর্মীদের কোন্দলের দিকে ঠেলছে। তবে সব কিছুরই সমাধান আছে। এটারও সমাধান হবে। এখানে লাভ-ক্ষতির কী আছে।’
একই কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বড় একটি সংগঠন। নেতাকর্মীও অসংখ্য। কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা থাকে সীমিত। তাই কোন্দলের পরিমাণটা বাড়ে। এ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তায় পড়তেই হয়। তবুও নির্বাচনে দল যাকে সমর্থন দেবে তার সঙ্গে সবাইকে কাজ করতে হবে। আশা করছি, আমাদের সমর্থকরাই বিজয়ী হবে।’