ঢাকাTuesday , 20 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খোকার ১৩ বছরের কারাদণ্ড

Link Copied!

khokaনিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদেক হোসেন খোকাকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ১৩ বছরের কারদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার তিন নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার এ রায় দেন।
রায় থেকে জানা যায়, ওই মামলায় খোকার বিরুদ্ধে দু’টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। দুর্নীতি কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন বিচারক।
এছাড়া একই আইনের ২৭(১) ধারায় বর্ণিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক খোকাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।
রায়ে উভয় সাজাই একই সাথে চলার কথা বলেছেন বিচারক।
এছাড়াও রায় থেকে আরও জানা যায়, খোকা ১০ কোটি ৫ লাখ ২১ হাজার ৮৩২ টাকা চুয়ান্ন পয়সা মূল্যমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তার জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ উৎস থেকে অসাধু উপায়ে অর্জন করায় তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাজেয়াপ্তকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে,
১। গুলশান-২ এর ৭২ নং রোডের ৯ নম্বর বাড়িতে পাঁচ কাঠা জমির উপর ছয়তলা বিশিষ্ট দালান বাড়ি, যার মূল্য ২ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার সাতশত টাকা।
২। মেসার্স বুড়িগঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিজ লি. এর নামে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় ২৭টি রেজিস্ট্রিকৃত সাফ-কবলা সিরিজ দলিলমূলে এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় ৩৪টি রেজিস্ট্রিকৃত সাফ-কবলা সিরিজ দলিলমূলে ১০০.১৯৪৬ একর কৃষি জমি, যার সর্বমোট মূল্য ৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪৮ হাজার ১৫৬ টাকা ২৫ পয়সা।
৩। মেসার্স বুড়িগঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিজ লি. এর নামে হাবিব ব্যাংক লি. মতিঝিল শাখার ৫০২৬-৮০ নম্বর চলতি হিসাবে জমাকৃত ২৩ লাখ ১২ হাজার ৯৭৬ টাকা ঊনত্রিশ পয়সা।
রায়ের শেষ দিকে আরও বলা হয়েছে যে, দণ্ডিত আসামি সাদেক হোসেন খোকা পলাতক থাকায় তার আত্মসমর্পণের তারিখ হতে কিংবা গ্রেপ্তারবরণ করে আদালতে সোপর্দ হওয়ার তারিখ হইতে তার দণ্ডভোগের মেয়াদ গণনা করতে হবে।
বিচারক পলাতক আসামি খোকার বিরুদ্ধে দণ্ড পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার রায়ে দুদকের পাবালিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এবং রেজাউল করিম রেজা সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, আসামি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
আদালত মামলাটিতে দুদকের পক্ষে ৪২ জন সাক্ষির সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তিতর্কের শুনানির পর গত ৪ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিল।
এর আগে ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর বিএনপির এই নেতাকে পলাতক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। ২০০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর সাদেক হোসেন খোকা ২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা সম্পদের হিসাব দাখিল করেন। দুদক সম্পদের তদন্তের পর ৯ কোটি ৭৬ লাখ ২৮ হাজার ২৬১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ৯ কোটি ৬৪ লাখ ৩ হাজার ৬০৯ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২ এপ্রিল রমনা থানায় এই মামলা দায়ের করে।
২০০৮ সালের ১ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা এই মামলা হাইকোর্টে সাদেক হোসেন খোকার মামলা বাতিলের আবেদনের কারণে দীর্ঘদিন নিম্ন আদালতের বিচার কার্যক্রম স্থগিত ছিল।
মামলাটিতে তার স্ত্রী মিসেস ইসমত আরাও আসামি। তবে চার্জশিট দাখিলের পূর্বে হাইকোর্ট তার অংশের মামলার কার্যক্রম স্থগিত করায় তার অংশের তদন্ত এখনো স্থগিত রয়েছে। মামলায় খোকার ছেলে ইসরাক হোসেন ও মেয়ে সারিকা সাদেক আসামি থাকলেও তাদের চার্জশিটে অব্যাহতি দেয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল করিম। ২০০৮ সালের ২ এপ্রিল রমনা থানায় এই মামলাটি দায়ের করে দুদক।