নিজস্ব প্রতিবেদক : সুন্দরবন ধ্বংসকারী রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের দাবিতে গণতান্ত্রিক বামমোর্চার রোডমার্চে পুলিশি হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের আইনের আওতায় এনে বিচার ও শাস্তির দাবি জানায় তারা।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর তোপখানা রোডের নির্মল সেন মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণতান্ত্রিক বামমোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হক এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘১৬ ও ১৭ অক্টোবর রোডমার্চে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা ব্যাপক হামলা-আক্রমণের শিকার হন নেতাকর্মীরা। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও মিছিল করে মানিকগঞ্জ শহর অতিক্রমের সময় পুলিশি হামলায় গণতান্ত্রিক বামমোর্চার সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশুসহ ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়।’
সাইফুল হক বলেন, ‘যশোর টাউন হল ময়দানে আমাদের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি। সেখানে দুপুরের খাবারও খেতে দেয়নি পুলিশ। এ কারণে ৫০ জন নারীসহ ৫ শতাধিক নেতাকর্মীকে অভুক্ত থাকতে হয়।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘রোডমার্চ ভণ্ডুল করতে বিভিন্ন স্থানে সাদা পোশাকে অসংখ্য ব্যক্তিকে শর্টগান, পিস্তলসহ নানা অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দিতে দেখা গেছে। একে যুদ্ধ পরিস্থিতির সাথে তুলনা করা যায়। ৪০ বছরে এমন পরিস্থিতির শিকার হইনি।’
সরকারের প্রতি ভারতের সমর্থনের বিনিময়ে জনগণ কোনোভাবেই দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে ধ্বংস হতে দিতে পারে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ইউনেস্কো, রামসারসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতামতকে উপেক্ষা করে সরকার রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের যে সর্বনাশা তৎপরতায় যুক্ত তা সুন্দরবনসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। সরকার এটা করছে ভারতকে সন্তুষ্ট করতে, ক্ষমতায় নির্বিঘ্নে থাকতে।’
এই হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ, ৫ নভেম্বর সন্দুরবন সংহতি দিবস, ২৯ অক্টোবর দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। একই সঙ্গে ১৪ নভেম্বর সুন্দরবন রক্ষায় কনভেনশনের প্রতি সমর্থন ও একাত্মতা প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বামমোর্চার মোশাররফ হোসেন নান্নু, মোশরেফা মিশু, জোনায়েদ সাকি, ইয়াসিন মিয়া, হামিদুল হক প্রমুখ।

