নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ বিনা ভোটে ১৫৪ জন সংসদ সদস্য নিয়ে সরকার গঠন করেছে। স্বৈরাচার এরশাদকেও তারা কাছে টানতে দ্বিধাবোধ করেনি। এছাড়া ক্ষমতায় আসার জন্য ১৯৯৬ সালে জামায়াত ইসলামের সাথেও তারা আঁতাত করেছে এবং ইসলামী সমমনা দলগুলোর সাথে ফতোয়া চুক্তি করেছিল। এতেই বোঝা যায় আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র কেমন। আসলে আওয়ামী লীগের গণতন্ত্রের সঙ্গে বিএনপির গণতন্ত্র যায় না।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আফসার আহমদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘হাসানুল হক ইনুর জাসদ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। এরশাদ হচ্ছে একজন স্বৈরাচার। আর এই ইনু ও এরশাদকে নিয়ে যদি আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে তাহলে আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না তারা গণতন্ত্রের পক্ষে না কি বিপক্ষে।’
খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের বাইয়ে চলে গেছেন- হাসানুল হক ইনুর এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সন্ত্রাসী, হত্যা ও জনগণের ভোট ছাড়া সরকার গঠন করা যদি আপনাদের গণতন্ত্র হয়, তাহলে আমি মেনে নিচ্ছি, বেগম জিয়া গণতন্ত্রের বাইরে অবস্থান করছেন।’ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যদি গণতন্ত্রের বাইরে থাকেন, তাহলে দেশের সকল জনগণই গণতন্ত্রের বাইরে অবস্থান করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সব সংসদ সদস্যর পদ বহাল রেখে আওয়ামী লীগ অবৈধ একটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘১৯৯৫ সালে বিএনপিও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আওয়ামী লীগ প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। ফলে আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী আনার পর পরই বিএনপি বলেছে এই সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। তাই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আওয়ামী লীগের প্রস্তাবে বিএনপি মানবে না। এটাই স্বাভাবিক।’
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে আওয়ামী লীগের নেতারা সব সময় মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন অভিযোগ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘শুধু বিএনপি নয়, জিয়াউর রহমানের পরিবারই সরকারের প্রধান টার্গেট। কারণ এই পরিবারকে জনগণ মন থেকে শ্রদ্ধা করে ও ভালোবাসে।’
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শহীদ জিয়ার প্রতি দেশে অনেক রাজনৈতিক নেতাই অসন্তুষ্ট, কিন্তু দেশের জনগণ অবশ্যই জিয়াউর রহমানকে ভালোবাসেন।’
দেশে সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে বিএনপি আন্দোলন করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বেগম জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চলছে। আর বিএনপির এই আন্দোলন হচ্ছে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক। আর শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেই বিএনপি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।’
সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালত রায় দিয়েছিলেন আরো দু’টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ আদালতের সেই রায় মানেনি। কারণ তারা জনগণ ও রাষ্ট্রে বাইরে গিয়ে নিজেদের স্বার্থের জন্য কাজ করে।’ ১৯৭৩ সালেই আওয়ামী লীগ দেশের গণতন্ত্রকে প্রথম ধ্বংস করেছিল বলেও মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম খান।
আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক জাহানারা সিদ্দিকী’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।

