ঢাকাSunday , 11 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হবিগঞ্জে ৬০১ মণ্ডপে দুর্গাপূজা

Link Copied!

Durgaহবিগঞ্জ প্রতিনিধি : আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর পরেই শুরু হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। এ পূজাকে ঘিরে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। একই সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পূজা উদযাপন কমিটি ও প্যাণ্ডেল,মঞ্চের কারিগরেরাও।
জেলা পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার সার্বজনীন ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে ৬০১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ৫৪৫টি সার্বজনীন এবং ব্যক্তিগত ৫৬টি।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে পূজার প্রস্তুতি। প্রতিমা কারিগরেরা প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে ফেলেছেন। এখন চলছে রং করাসহ সাজগোজের কাজ। কারিগরদের নিপুন হাতের ছোঁয়ায় মণ্ডবে চলছে সাজ সাজ রব।
জেলার ঘোষ পাড়ার প্রতিমা কারিগর হরিপদ পাল বলেন, ‘এ বছর আমি ৬টি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির অর্ডার নিয়েছি। তাই দম ফেলারও সময় পাচ্ছি না। আমার দুই ছেলে আমাকে প্রতিমা তৈরির কাজে সহযোগিতা করছে। আমরা প্রায় দুই মাস আগে থেকেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছিলাম। এখন রং করার কাজ করছি।’
প্রতিমা শিল্পী সুবল পাল বলেন,‘পূজার আর বেশি দিন বাকি না থাকায় এখন রং লাগানোর কাজ চলছে। এ বছর আমি সর্বোচ্চ ৫০ হাজার থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ৮ হাজার টাকার পারিশ্রমিকে প্রতিমা তৈরি করছি।’
শহরের ঘাটিয়া বাজার এলাকার পূজার আয়োজক দীপক দাস বলেন,‘অন্য বছরের তুলনায় এবার পূজায় খরচ একটু বেশি হচ্ছে। গত বছর মূর্তি বানানো হয়েছিল ৩৫ হাজার টাকায়। এ বছর তাতে দিতে হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া প্যাণ্ডেল, সাউন্ডসহ সব কিছুতেই বেশি টাকা দিতে হচ্ছে।’
দামের ব্যাপারে কারিগর মোহন লাল দাস বলেন, ‘মূর্তি তৈরিতে যেসব জিনিস লাগে যেমন- রং, পেষাকসহ যাবতীয় জিনিসের দাম বেড়েছে, তাই মূর্তি তৈরিতেও আমাদের একটু বেশি মজুরি নিতে হচ্ছে।’
দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র বলেন, ‘দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক ও সজাগ থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো মহল যাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,‘ আজমিরীগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশনে প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তবে আর কোনো মহল এমন কাজ করতে পারবে না। কারণ ঝুকিপূর্ণ পূজা মণ্ডপে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিটি পূজা মণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা আনসার পুলিশ অবস্থান করবে।’
দুর্গাপূজায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করায় পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার দেব বলেন,‘আশা করছি প্রতি বছরের মতো এবারও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে।’
উল্লেখ্য, ১২ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে এ বছর দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর আগামী ১৮ অক্টোবর দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পূজা শুরু হবে। ১৯ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ২০ অক্টোবর মহাষ্টমী ও কুমারীপূজা, ২১ অক্টোবর মহানবমী এবং ২২ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ এ ধর্মীয় উৎসব।