ঢাকাSunday , 4 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রেলের জমি দখলের মহোৎসব চলছে

Link Copied!

Railলালমনিরহাট প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন থেকে বেদখল রয়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রায় ২৮ হাজার একর জমি। সেইসঙ্গে দখলের মহোৎসব অব্যাহত রয়েছে। বেদখল হওয়া জমিগুলো যেমন পুনরুদ্ধার করা যাচ্ছে না, তেমনি দখল ঠেকানোও যাচ্ছে না।
জমি উদ্ধারের নামে দখলদারদের কাছ থেকে বছরের পর বছর মাসোহারা নিয়েছে রেল বিভাগের কর্মকর্তারা। কিন্তু এসব জমি উদ্ধার করা তো হচ্ছেই না বরং রেল কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ, শ্রমিকলীগ, শ্রমিকদল ও বিএনপি নেতারা একের পর এক জায়গা দখল করে চলেছে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, দখল হওয়া জমি উদ্ধারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এদিকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ জোনের বিভিন্ন জেলায় নতুন করে ঘিরে নেওয়া হয়েছে জায়গা। এ কারণে এ জোনে ট্রেন চলাচল ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
রেলের একাধিক সূত্র জানায়,এ জায়গা দখলে রাজনৈতিক নেতা ও রেল কর্মকর্তারা জড়িত থাকায় জমি উদ্ধারে অভিযোগ দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। লালমনিরহাট রেল বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা সরাসরি এ লিজ বাণিজ্যের সাথে জড়িত। তারা একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে লিজ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা।
রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে সর্বমোট ৩৭ হাজার ৭০৫ দশমিক ৬৪ একর জমি রয়েছে। লালমনিরহাট বিভাগে ১১ হাজার ২৯৬ একর এবং পাকশি বিভাগে ২৬ হাজার ৪০৯ দশমিক ৬৪ একর জমি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল। এর মধ্যে লালমনিরহাট বিভাগে লাইসেন্সের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩ হাজার ৮৪ দশমিক ৪৯ একর এবং পাকশি বিভাগে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৬ হাজার ৭৯৮ একর। বাদবাকি রেলের বিশাল ভূ-সম্পত্তি জবরদখল করে রেলের কর্মকর্তারা ও এক শ্রেণির মানুষ ভোগদখল করছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এসব সরকারি জমিতে ইমারত নির্মাণ করে দখলে রেখেছে।
দখলদারদের তালিকায় বেশিরভাগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতাকর্মী ও রেলের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে। তারা নিজের নামে-বেনামে একাধিক জায়গা দখল করে রেখেছে। শুধু তাই নয় অসাধু রেল কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের নেতারা জমিগুলো নিজে দখল করে আবার অন্যদের সাব লিজ দিয়ে সুবিধা আদায় করছে।
এদিকে, রেলওয়ের পরিসংখ্যানেই ২৮ হাজার ২ দশমিক ৩১ একর জমি বেদখল হয়ে আছে। বেদখল হওয়া সম্পত্তির মধ্যে লালমনিরহাটে ১০৫ দশমিক ৬ একর এবং পাকশিতে ১৯২ দশমিক ৬৪ একর জমি। জমি দখলের বেশিরভাগ ঘটনা ঘটেছে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর ঈশ্বরদী, বগুড়া, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলায়।
রেল বিভাগ এ জমিগুলো পুনরুদ্বারে তদন্ত কমিটি গঠন করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরও দখলে নিতে পারেনি। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রেল বিভাগের কিছু জমি নতুন করে দখল শুরু হয়েছে। লালমনিরহাটের স্টেশন রোড, মোগলহাট ও পাটগ্রামের জায়গা দখল করে নিয়েছেন তারা।
এছাড়া কুড়িগ্রামের পুরাতন স্টেশনের পুরো জায়গাটা দখল করে আছে রাজনৈতিক নেতারা। স্টেশন ও রেল লাইনের দুই ধারে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা বসিয়েছে নানা পসরা। যা ট্রেন চলাচলে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা দাবি করেছেন, দখলবাজরা তাদের দলের কেউ নন।
পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। অভিযান চলতেই থাকবে।’