ঢাকাFriday , 2 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জমি নিয়ে বিরোধে ভাইকে কুপিয়ে হত্যা

Link Copied!

armsশরীয়তপুর প্রতিনিধি : জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে শরীয়তপুরের জাজিরায় এক ভাই আরেক ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। ঘটনার পর নিহতের সমর্থকরা ৩০টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে ২০টি গরু ১০টি ছাগল, ৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুট করে নিয়ে গেছে।
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় জাজিরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে ঘাতক ছোট ভাই মোতালেব মাদবর ও মালেক মাদবর পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে নিহত সামাদ মাদবরের (৬০) সমর্থকরা রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করে।
নিহতের চাচাতো ভাই লিটন মাদবর জানান, জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের চর খোরাতলা গ্রামের সোলায়মান মাদবর পাঁচ ছেলে রেখে মারা যান। মারা যাওয়ার পরে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ছেলেরা সমানভাবে ভোগ দখল করে আসছেন। তবে নিহত সামাদ মাদবরের দাদি আনজু বিবি মারা যাওয়ার পূর্বে ৪৮ শতাংশ জমি তার নামে লিখে দেন। পরবর্তীতে সামাদ মাদবরের চার ভাই দাদির দেয়া জমির সমান ভাগ চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘ দিন দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সামাদ মাদবর পার্শ্ববর্তী গঙ্গানগর এলাকা থেকে ওয়াজ শুনে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বাড়ির কাছাকাছি বিলের মাঝে আসলে ছোট ভাই মোতালেব মাদবর ও মালেক মাদবর সহযোগিদের নিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। এ সময় সামাদ মাদবরের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। তবে কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
ঘটনার পর হত্যাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শাহ জালাল বাদী হয়ে জাজিরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নিহতের স্ত্রী আয়নামতি বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীকে মোতালেব মাদবর ও মালেক মাদবর সন্ত্রাসীদের নিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
এদিকে, নিহত সামাদ মাদবর সমর্থকরা বৃহস্পতিবার রাত থেকে  শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত স্থানীয় সুলতান মাদবর, নুরুল ইসলাম মাদবর, আয়নাল মাদবর, আলমগীর সরদার, মোকলেছ সরদার, হালিম মাদবর, আনোয়ার মাদবর, জলিল ফকির, জালাল ফকির, খালেক ফকির, আনোয়ার ফকির, রহিম মৃধা, জাহাঙ্গীর সরদার, আসলাম সরদার জব্বার ফকিরসহ প্রতিপক্ষের ৩০টি ঘরবাড়ি, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুট করেছে। এছাড়া ২০টি গরু, ১০টি ছাগল, ৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ঘরে থাকা আসবাবপত্রসহ ৫০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। এ সময় হামলাকারীরা  শ্রীমতি বিবি ও নূরজাহান বেগম নামে দুই নারীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে।
পুলিশের উপস্থিতিতে লুটপাট ও ভাঙচুর হলেও পুলিশ কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না বলে ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
লুটপাটের ঘটনা অস্বীকার করে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।