নিজস্ব প্রতিবেদক : চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের স্বাস্থ্যের খবর নিতে ছুটছেন তার উত্তরার বাসায়। অন্যদিকে নিজের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর জানানোর পাশাপাশি সবাইকে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া তরান্বিত করার নির্দেশনা দিচ্ছেন।
চিকিৎসার জন্য গত গত ২৭ জুলাই সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত।পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি সিঙ্গাপুর থেকে নিউইয়র্ক গিয়েছিলেন।
মস্তিষ্কের ক্যারোটিড আর্টারিতে দুটি ব্লক ধরা পড়ায় কারাবন্দী ফখরুলকে গত ১৪ জুলাই সুপ্রিমকোর্ট চিকিৎসার জন্য জামিন দেয়।
জানা গেছে, দুটি ব্লক থাকলেও রক্ত সঞ্চালন মোটামুটি অব্যাহত এবং ঝুঁকি থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকরা ফখরুলের অস্ত্রোপচার না করার পক্ষে মত দিয়েছেন। সে পরামর্শ নিয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসকদের দেখিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন। তবে নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং তাকে চেকআপে থাকতে হবে বলে চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিয়েছেন।
সোমবার রাত পৌনে ১১টায় বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে সিঙ্গাপুর এবং যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসার সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। আগের চেয়ে স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো বলেও জানান তিনি। এখনও চিকিৎসা চলছে জানিয়ে ফখরুল বলেন, আবার ছয় মাস পরে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে দলীয় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে স্বাগত জানাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদুসহ অনেকে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
যারা বিমানবন্দরে যাননি তারা মঙ্গলবার সকালে তার উত্তরার বাসায় গিয়ে কুশল বিনিময় করেন। বিএনপি নেতা ড. আবদুল মঈন খান, মো. শাহজাহান, শ্যামা ওবায়েদসহ অনেকেই বাসায় গিয়ে স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতাও সকাল থেকে বিভিন্ন সময় মির্জা ফখরুলের বাসায় গিয়েছেন বলে জানা যায়। অনেকে টেলিফোনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে কথা বলেন।
এদিকে বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে দল পুনর্গঠন কথা বলেছেন মির্জা ফখরুল। ফখরুল বলেন, আশা করি, পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সফল হবে। আমাদের নেতৃবৃন্দ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন, তারা সাফল্যের সঙ্গে সফল করতে সক্ষম হবেন।
অসুস্থ হলেও ‘রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার’ সঙ্গেই থাকছেন বলে জানান ফখরুল।
ফখরুলের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, যেসব নেতা তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করছেন এবং টেলিফোনে কথা বলছেন সবাইকে দল পুনর্গঠনের কাজ তরান্বিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
সোমবার রাতে বিমানবন্দর থেকে ফখরুলের বাসায় পৌঁছা পর্যন্ত তার সঙ্গে ছিলেন এমন একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে বলেন, মহাসচিব সবাইকে চেয়ারপারসনের চিঠিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনর্গঠন কাজ এগিয়ে নেয়ার জন্য বলছেন।
স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, তাকে অনেকটা সুস্থ মনে হলো।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ব্যক্তিগত সহকারী মো. ইউনুস বলেন, স্যারের শারীরিক অবস্থা আল্লাহর রহমতে ভালো। নিয়মিত ওষুধ এবং চেকআপে থাকতে হবে। দলের অনেক শীর্ষ নেতা তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে বাসায় গিয়েছিলেন। অনেকে টেলিফোনে খবর নিচ্ছেন। আগামীকাল বুধবার তিনি ঠাকুরগাঁও যাবেন। সেখানে ঈদ করে আবার ঢাকায় ফিরবেন।

