ঢাকাTuesday , 22 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আট বছর পর খালেদার খুশির ঈদ

Link Copied!

Khaladaনিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ আট বছর পর এবার পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে সপরিবারে রয়েছেন তার বড় ছেলে তারেক রহমান। ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারও মালেয়শিয়া থেকে সেখানে গেছেন। দীর্ঘ সময় পর শুধু পরিবারের সঙ্গেই নয়, দেশের বাইরে এটি প্রথম ঈদ খালেদা জিয়ার।
১/১১ এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ কারাগারে আটক থাকার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান খালেদা জিয়া। এর মধ্যে ২০০৭ সালের দুটি ঈদ কারাগারে কেটেছে তার। পরে তারেক রহমান প্যারোলে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। তিনি এখনো সেখানেই আছেন। সঙ্গে আছেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।
এদিকে আরাফাত রহমান কোকোও ওই সময়ে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে থাইল্যান্ড যান। পরে তার স্ত্রী শর্মিলা রহমান, দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে নিয়ে মালেয়শিয়ায় যান। সেখানে গত ২৪ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন তিনি। রাজধানীর ঢাকার বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পরিবারের তিন অংশ তিন স্থানে থাকায় গত ১৭টি ঈদ আপনজন ছাড়াই উদ্যাপন করেছেন বিএনপি নেত্রী। এই দীর্ঘ সময়ে বড় ছেলে তারেক রহমান লন্ডনে, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পরিবার মালেয়শিয়ায় আর বিএনপি নেত্রী বাংলাদেশে ঈদ করতেন।
পরিবার ছাড়া ঈদ করলেও প্রতিবছর ঈদের দিন নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খালেদা জিয়া। ঈদের দিন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন (চীন মৈত্রী) কেন্দ্রে বিশিষ্ট নাগরিক, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও সর্বসাধারণের সঙ্গে ঈদের কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি নেত্রী।
শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করে দেশ ও জাতির শান্তি এবং কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করেন। তবে ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর গত রোজার ঈদে তার কবর জিয়ারত করেন খালেদা জিয়া।
বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের ছেড়ে এই দীর্ঘ সময়ে অনেকটা নিরানন্দে ঈদ কেটেছে বেগম জিয়ার। কারণ সুদূর প্রবাসে দিনযাপন করে দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর পরিবার। দীর্ঘ আট বছর ঈদে মায়ের পা ছুঁয়ে সালাম করার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত তারা। এসব ভেবে দুই ভাইয়ের পরিবারের ঈদও নিরানন্দেই কেটেছে।
তবে ঈদের দিনে মায়ের সঙ্গে টেলিফোনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন দুই ছেলের পরিবারের সদস্যরা। এরপর সকালে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি প্রধান। পরে ছোট ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্য ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাতেন তিনি।
তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিএনপি নেত্রী এখন লন্ডনে দুই ছেলের পরিবারের সঙ্গে আছেন। চোখের চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে দুই সপ্তাহের মতো সেখানে অবস্থান করবেন তিনি। অর্থাৎ আসন্ন ঈদুল আজহা সেখানেই কাটাবেন তিনি।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন খালেদা জিয়া। ২০০৬ সালে ক্ষমতা হারানোর পর যুক্তরাজ্যে খালেদার এটি দ্বিতীয় সফর। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে দেশে ফেরার পথে বড় ছেলে তারেককে দেখতে লন্ডনে গিয়েছিলেন তিনি। বিএনপি নেত্রী লন্ডন পৌঁছানোর পর তাকে এগিয়ে নিতে বিমানবন্দরে আসেন তারেক রহমান। এ সময় মা-ছেলের সাক্ষাতে এক আবেগময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ছেলেকে জড়িয়ে ধরে খালেদা জিয়াও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সামান্য সময় কুশল বিনিময়ের পর খালেদা জিয়াকে তারেক রহমান নিজেই গাড়ি চালিয়ে হোটেল সোফিটেলে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন দুই পুত্রবধূ তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান।
এ ছাড়া নাতনি জাইমা রহমান ও জাহিয়া রহমান স্বাগত জানান প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রীকে। এ সময় পুত্রবধূদের জড়িয়ে ধরে আবারো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া। নাতনিদের জড়িয়ে ধরে নীরবে কিছুক্ষণ অশ্রু বিসর্জন করেন তিনি। লন্ডন বিএনপির নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর আপনজনের সাক্ষাৎ পেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন তাদের সঙ্গেই বেশি সময় কাটাচ্ছেন। ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে একান্তে কথা বলছেন। নাতি-নাতনিদের নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। তবে লন্ডন সফরের প্রথম কয়েকদিন পরিবার ছাড়া কাউকে সাক্ষাৎ না দিলেও শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় লন্ডন বিএনপির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন খালেদা জিয়া।
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে আছে।
দেশে অবিলম্বে একটি নির্বাচন জরুরি মন্তব্য করে তিনি বলেন, মাত্র ৫ শতাংশ মানুষের জনপ্রিয়তা নিয়ে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই। ক্ষমতা দখলের পর থেকেই বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের হত্যা, খুন ও গুম অব্যাহত রয়েছে।
বেগম জিয়া অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে উপাস্থাপনের চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা জঙ্গিদের সঙ্গে নিয়ে দল পরিচালনা করছেন। ওয়ান ইলেভেনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হন খালেদা জিয়া। ওই সময় বড় ছেলে, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোও গ্রেফতার হন। সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ কারাগারে আটক থাকার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান খালেদা জিয়া।