ঢাকাMonday , 21 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মহানগর আ.লীগে মহাজট, কমিটি নিয়ে ভজঘট!

Link Copied!

A.legeeনিজস্ব প্রতিবেদক : অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বিভক্ত কমিটি ঘোষণা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে ‘ভজঘট’। আর নতুন কমিটি ঘোষণা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে ‘মহাজট’। দায়িত্বশীল নেতারা বিভক্ত মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটির ফরম্যাট চূড়ান্ত করলেও নতুন মেরুকরণে তা ঘোষণা করতে পারছেন না।
সম্প্রতি মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন তৎপরতা এবং তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, গত ২৭ ডিসেম্বর সাড়ে নয় বছর পর অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন।  প্রথা অনুযায়ী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।
এর মধ্যে দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। তাই এখন বিভক্ত কমিটির নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে জটিলতা।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন থেকে মহানগর কমিটি ঘোষণাও না করায় দেখা দিয়েছে মহাজট জটিলতা।
সূত্র জানায়, মহানগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ উত্তর ও দক্ষিণের নতুন কমিটির শীর্ষ পদে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
এ নিয়ে ইতিমধ্যে নগর এই দুই নেতা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গেও দেখা করে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
রোববারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে তার সঙ্গে দেখা করতে যান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মায়া।
গণভবন ও মহানগর আওয়ামী লীগের সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এই সূত্র জানায়, মায়া আজও সভানেত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিভক্ত কমিটিতে থাকার মত পোষণ করেন। পাশাপাশি বিভক্ত মহানগর কমিটি নিয়ে দলীয় ফোরামের সিলেকটিভ নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রস্তাবিত নেতাদের বিপক্ষে দ্বিমত পোষণ করেন।
এর আগে গত শুক্রবার চীন থেকে ফিরে বিকেলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য মায়া তার কয়েক হাজার অনুসারী ও সমর্থক নিয়ে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে শোডাউন করেন তারা। এ সময় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা উপস্থিত ছিলেন। তবে অসুস্থতার কারণে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ অনুপস্থিত থাকলেও তার অনুসারী ও সমর্থকরা শোডাউনে উপস্থিত ছিলেন। তার আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর দীর্ঘদিনের বিবাদ ভুলে এক হন নগর আওয়ামী লীগের এই দুই নেতা আজিজ-মায়া।
সূত্র আরো জানায়, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও ওই দুই নেতা একমত হতে না পারায় কমিটি গঠিত হয়নি।
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় ডিসিসি উত্তর ও দক্ষিণে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ফারুক খান ও ড. আবদুর রাজ্জাক। তারা ওই সময় দল সমর্থিত ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থীর তালিকা তৈরি করেন। নির্বাচন শেষ হলে এ দুই নেতা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের দুটি কমিটির প্রস্তাব করেন।
ওই দুই কমিটির উত্তরে সভাপতি পদে সংসদ সদস্য একেএম রহমতউল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক পদে সাদেক খান এবং দক্ষিণে সভাপতি পদে এমএ আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক পদে শাহে আলম মুরাদের নাম দলীয় সভানেত্রীর কাছে প্রস্তাব করা হয় বলে নেতারা জানতে পারেন।
এর পরপরই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগে। এ দুই কমিটির শীর্ষ পদে প্রস্তাবিত তিন নেতাকে রুখতে দীর্ঘদিনের বিবাদ ভুলে গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক টেবিলে বসেন আজিজ-মায়া।
সেদিন মন্ত্রীপাড়ায় ত্রাণমন্ত্রী মায়ার সরকারি বাসভবনে নগর নেতাদের নিয়ে বৈঠকের পর তারা যান দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বাসভবনে। সেখানে তারা সৈয়দ আশরাফকে সাফ জানিয়ে দেন, উত্তরে সংসদ সদস্য একেএম রহমতউল্লাহ ও সাদেক খান এবং দক্ষিণে শাহে আলম মুরাদকে তারা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
এরপর ওইদিন রাতেই গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে একই মনোভাব জানিয়ে দেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মায়া। এর পরের দিন চীনের বেইজিংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।
এ ছাড়াও আজিজ ও মায়ার অনুসারী নগর আওয়ামী লীগের নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রভাবশালী ও নীতি-নির্ধারক নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে থাকেন। তার মধ্যে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তারা দেখা করে তার কাছে অভিমত ব্যক্ত করে নেতারা বলেন, একেএম রহমতউল্লাহ, সাদেক খান ও শাহে আলম মুরাদকে তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারনী কয়েকজন নেতা বলেন, বিভক্ত মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তা নিয়ে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারনী পর্যায়েই বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
এই নিয়ে কেউ মুখে না খুললেও একটি অংশ আজিজ-মায়া বলয়ের হয়ে কাজ করছেন।
অন্যদিকে দলীয় সভানেত্রীও মায়ার অতীত রাজনৈতিক অবদানের কারণে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন। তবে এর সবকিছুই নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর।