নিজস্ব প্রতিবেদক : ছিটমহলবাসীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। আর্থ সামাজিক সুবিধা থেকে পিছিয়ে পড়া এ জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কৃষি সরঞ্জামাদি বিতরণের মাধ্যমে কৃষিকাজে সহায়তা প্রদান এবং আধুনিক ও উন্নত চাষাবাদে উদ্বুদ্ধকরণে ডিএই’র সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ইতোমধ্যে বেশকিছু কার্যক্রম শুরু করেছে।
সম্প্রতি সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের উদ্যোগে একটি প্রতিনিধিদল পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দহলা খাগড়াবাড়ী ছিট পরিদর্শন করে। প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ কেশব লাল দাশের নেতৃত্বে ঐ প্রতিনিধিদলে ছিলেন ডিএই’র অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং) কৃষিবিদ চৈতন্য কুমার দাশ, দিনাজপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সৌমেন সাহা, উপ-পরিচালক (পঞ্চগড়) কৃষিবিদ স. ম. আশরাফ আলী এবং জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা (ডিটিও) শহির উদ্দিন আহমেদ। উল্লেখ্য, পঞ্চগড় জেলায় ৩৬টি ছিট মিলিয়ে মোট ১১টি ছিটমহল রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১টি, বোদায় ৪টি এবং দেবীগঞ্জে ৬টি ছিটমহল।
প্রতিনিধি দলটি দহলা খাগড়াবাড়ি ছিট ঘুরে দেখেন। এ সময় সেখানকার বাসিন্দারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং খোঁজখবর নিতে আসায় সফরকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ছিটের বাসিন্দারা এ সময় সুস্থ ও সুন্দর জীবন গড়ে তুলতে এবং তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সরকারি সাহায্য সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের পরিচালক কেশব লাল দাশ দহলা খাগড়াবাড়ী ছিটের বাসিন্দাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে তার প্রকল্পের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি ২০০ জন কৃষক-কৃষাণিকে আধুনিক ও উন্নত কৃষিকাজের কলাকৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদানের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া প্রকল্পের পক্ষ থেকে এই ২০০ জনের প্রত্যেকের বাড়িতে রোপণের জন্য মাল্টা, কমলা, লেবু ও জাম্বুরার ১২টি চারা প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি। পরবর্তীতে এই ছিটে ব্লক প্রদর্শনীসহ কৃষক-কৃষাণিদের প্রশিক্ষণ প্রদানেরও আশ্বাস দেন প্রকল্প পরিচালক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক কেশব লাল দাশ দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের মাধ্যমে ছিটমহলবাসীর জীবনমান উন্নয়নে বেশকিছু কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কৃষক-কৃষাণিদের আধুনিক ও উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতির উপর প্রশিক্ষণ, ব্লক প্রদর্শনী, চারা বিতরণ ও রোপণসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া এ জনগোষ্ঠীতে সুন্দর জীবন গড়তে সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (পঞ্চগড়) স. ম. আশরাফ আলী দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, বিভিন্ন ছিটমহলে প্রায় ৪ হাজার পরিবারকে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণের পাশাপাশি বিভিন্ন ফসলের প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ, স্থানীয়ভাবে শাক সবজি চাষের জন্য সহায়তা করা হবে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমরা বিভিন্ন দলীয় আলোচনা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে আধুনিক ও উন্নত চাষাবাদ ব্যবস্থা সম্পর্কে ছিটমহলবাসীদের ধারণা দিচ্ছি।


