ঢাকাFriday , 18 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গরু মোটা-তাজাকরণে ব্যস্ত গোপালগঞ্জের খামারিরা

Link Copied!

cowগোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : সামনে কোরবানির ঈদ। তাই হাটে গরু বিক্রি করতে মোটা-তাজাকরণে ব্যস্ত গোপালগঞ্জের খামারিরা। তবে গরু মোটা-তাজাকরণে সারা দেশে যখন জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নানা ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে সেখানে গোপালগঞ্জের খামারিরা খড়, ভূষি আর প্রাকৃতিক ঘাস খাইয়ে গরু মোটা-তাজা করছেন।
নিরাপদ গরুর মাংস উৎপাদনের জন্য গোপালগঞ্জ জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের তত্তা¡বধানে এসব গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। তবে এবারের কেরবানিতে ভারতীয় গরু না আসলে দেশীয় গরু বিক্রি করে লাভবান হবেন এমনটাই প্রত্যাশা খামারিদের।
জেলা প্রাণি সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ৫ উপজেলার ৬ হাজার ৭ শ’ ৯৫ খামারে ২১ হাজার ৩ শ’ ২৮টি গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ১ হাজার ৬ শ’ ৭৮ টি খামারে ৫ হাজার ৩ শ’ ২৮ টি, টুঙ্গিপাড়ায় ৭০২ টি খামারে ১ হাজার ৭টি, কোটালীপাড়ায় ১৩০২টি খামারে ৪ হাজার ৬ শ’ ৬৯টি, মুকসুদপুরের ১ হাজার ২ শ’ ৪১টি খামারে ৪ হাজার ৫ শ’ ৩ টি ও কাশিয়ানীর ১ হাজার ৮শ’ ৭২টি খামারে ৪ হাজার ১ শ’ ৩১টি গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। গত বছর এ জেলায় প্রায় ১৫ হাজার গরু মোটাতাজা করা হয়। এ ছাড়া ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে আরো প্রায় ৪ হাজার গরু মোটা-তাজাকরণ করা হয়েছে।
জেলা পশু সম্পদ অধিদপ্তরের হিসেবে গত বছর গোপালগঞ্জ জেলায় অন্তত ৩৫ হাজার পশু জবাই করা হয়। এর মধ্যে গরু, ছাগলসহ অন্যান্য পশুও রয়েছে। এ বছর কোরবানির চাহিদার প্রায় ৬০ ভাগ পশু এ জেলায় লালনপালন করা হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে জানা গেছে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব মিয়াপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার সোনাখালি গ্রামের ৫শতাধিক পরিবার প্রায় ২৫ হাজার গরু মোটাতাজা করে বিক্রি করছেন। কোরবানির হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজার থেকে ছোট গরু কিনে ৮/১০ মাস পালন করে খড় ও ভূষির সঙ্গে জমিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেওয়া ঘাস খাইয়ে করছেন মোটাতাজা। ফলে একদিকে যেমন স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকছে কম অন্যদিকে এ দেশীয় গরুর চাহিদাও বেশি।
মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর কোনো রকম ওষুধ ব্যবহার না করে পশু সম্পদ বিভাগের পরামর্শ নিয়ে খামারিরা ২১ হাজার ও পারিবারিক ও বক্তিপর্যায়ভাবে আরো প্রায় ৪ হাজার গরু মোটা-তাজাকরণ করেছে। তবে এবার ভারতীয় গরু বাজার দখল না করলে দেশীয় গরুর চাহিদা থাকায় লাভবান হবেন খামারিরা।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার খামারি হোসেন মিয়া জানান, এ বছর কোরবানিতে গরু বিক্রি করার জন্য স্টেরয়েড ছাড়াই খড়, ভূষি ও ঘাস খাইয়ে গরু মোটাতাজা করেছি। যার জন্য গরুর হাটে চাহিদা বেশি থাকবে।
খামারী মোসলেম উদ্দিন জানান, আমাদের স্থানীয় গরু প্রকৃতিকভাবে পালন করা হয়েছে। এ গরুর মাংস নিরাপদ। তবে ভারতীয় গরু বাজারে না আসলে এ বছর লাভবান হব।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতাউর রহমান চৌধুরী জানান, গরু মোটাতাজাকরণে কান অপদ্রব্য ও ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করার জন্য উপজেলা নিয়ন্ত্রণ কমিটি করা হয়েছে। আগামীতে আমরা জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরের জেলায়ও পশু সরবরাহ করতে পারব। তবে ভারতীয় গরু না আসলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।