ঢাকাWednesday , 16 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জলে ভাসা জীবন

Link Copied!

boatলক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : আধুনিক যুগে মানুষ স্বপ্ন দেখে বহুতল ভবনে বসবাস করার। ঠিক এ সময় নৌকায় বসবাস করছে একশ্রেণীর মানুষ। জলেতেই তাদের জীবনের সব স্বপ্ন ভেসে বেড়ায়। ভাসমান এ জীবনের যেন শেষ নেই।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মজু চৌধুরীরহাট ঘাট এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে এভাবেই ভাসমান অবস্থান প্রায় শতাধিক ভাসমান জেলে পরিবার নৌকায় বসবাস করছেন। নৌকাতেই জন্ম আর নৌকাতেই মৃত্যু তাদের। মাঝখানের সময়টুকুও পার করেন নৌকায়। খাওয়া দাওয়া, বিয়ে-সংসার সবই চলে নৌকাতে।
এসব অসহায় জেলেরাও মানুষ। সার্বভৌমত্ব একটি স্বাধীন দেশে বসবাস করে নাগরিক হিসেবে সব রাষ্ট্রীয় অধিকার ভোগের কথা থাকলেও এ অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত। এসব জেলেদের বেশিরভাগেরই নাম নেই ভোটার তালিকায় কিংবা জন্ম নিবন্ধন রেজিস্টারে।
সরকারের একটু সহযোগিতা পেলে বদলে যেতো তাদের জীবন চিত্র। প্রকৃতি অনুকূলে থাকলেই তারা সপরিবারে ছুটে যায় মেঘনা নদীতে। মাছ শিকারের পর আবার তারা নদীর কিনারাই ফিরে আসে। একটি নৌকাই তাদের আবাসস্থান। দিন- রাত নৌকা আর নদীর মধ্যে ঘরবসতি তাদের। ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে প্রকৃতির সাথেই বসবাস করছে তারা।
বুধবার সকালে সরেজমিনে মজু চৌধুরী হাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নৌকায় বসবাস হলেও বিনোদনে তাদের ঘাটতি নেই। প্রায় নৌকায় রয়েছে ব্যাটারিচালিত টেপ রেকর্ডার। আবার বহরের কয়েকটি নোকায় সৌরবিদ্যুৎ। যার মাধ্যমে ২-৩টি লাইট জ্বালিয়ে থাকে।
এখানকার প্রায় সব জেলে পরিবারই জিম্মি মহাজনের কাছে। নদী থেকে ফিরে ঝুড়িভর্তি মাছ তুলে দেয়া হয় কিনারায় অপেক্ষায় থাকা মহাজনের হাতে। মহাজন বাজারে মাছ বিক্রি করেন। মাছ বিক্রির টাকা কখনো গুণে দেখেনি জেলেরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জেলে জানান, সারা বছর মহাজন পুলিশের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করেন। যখন নদীতে মাছ থাকে না তখন মহাজন আমাদের সওদা চাল, ডাল, লবণ কিনে দেন। তাই মহাজনই আমাদের সব। বিপদের সময় বন্ধু সেজে মহাজন সওদার নামে ওই জেলেদের দাদন দিয়ে থাকেন। আর ওই দাদনের বিনিময়ে নিজেকে জিম্মি করেন জেলেরা।
জেলে পুনর্বাসন কর্মসূচির তালিকায়ও নাম নেই ভাসমান জেলেদের। মহাজনের নির্দেশে বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ শিকার করতে যাওয়া ভাসমান জেলে পরিবারের শিশুরা স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায় না। নিয়মিত বাবা-মায়ের সঙ্গে জাল টানতে সহায়তা করছে শিশুরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে জলডাকাতদের প্রহারের শিকার হতে হয়েছে এসব জেলেদের। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কিংবা বাল্যবিয়ে সম্পর্কে ধারণা নেই ভাসমান জেলে পরিবারগুলোর।
জেলেরা আরো জানান, মাথা গুজাবার স্থান নেই তাদের। তাই তারা ঝুঁকি নিয়ে জীবন যুদ্ধে লড়ছেন প্রতিকুল আবহাওয়ায়। নৌকায় তাদের জীবন নৌকায় তাদের মরণ। হাসি কান্না আর আনন্দ বেদনা সব কিছুই ঘটে এ নৌকায়।
আবার এসব জেলেদের কেউ কেউ বলেন, সংসদ নির্বাচনসহ যেকোনো নির্বাচন আসলে কদর বাড়ে তাদের আর নির্বাচনের পর কেউ তাদের খবর রাখেন না।
এই প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ কালে হঠাৎ নৌকা থেকে বেরিয়ে এলেন প্রায় ৮০ বছরের রহিমত উল্যা নামে এক বৃদ্ধা। তিনি বলেন, ‘পূর্ব পুরুষ থেকে প্রথমে ভোলা পরে পরে মজুচৌধুরীরহাট দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বৃষ্টিতে ভেজা আর রোদে জ্বলা আমাগো নিত্য দিনের চিত্র। নদীতে মাছ ধরা, থাকা, খাওয়া, বিয়ে-বাজনা সব কিছুই চলে নৌকায়।
তাদের দাবি তারাও এ স্বাধীন দেশের নাগরিক কিন্তু সে অধিকার থেকে বঞ্চিত তারা। মায়ের কোলে বেড়ে উঠা কোমলমতি এসব শিশুদের ভবিষ্যৎ রয়েছে অনিশ্চয়তায়। তাই সরকারের একটু সহযোগিতায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান ও বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টিতে এসব পরিবার সুন্দর জীবন যাপন করবেন এমনই প্রত্যাশা মেঘনা পাড়ের ভাসমান জেলেদের।
এ ব্যাপারে চর রমণী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল জানান, ভাসমান নদীতে থাকা জেলে পরিবারদের সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা দেয়া সম্ভব হয় না। কারণ তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে। তাছাড়া তারা এ ইউনিয়নের ভোটার না হওয়ায় কিছুই করা যাচ্ছে না।