নিজস্ব প্রতিবেদক : আজিমপুর থেকে উত্তরা যাবেন আরিফুর রহমান। বাসা থেকে বের হয়েছেন সকাল নয়টায়। উত্তরায় ১২টার দিকে একটা ব্যবসায়িক বৈঠক ছিল বিদেশি একজন ক্রেতার সঙ্গে। কিন্ত বেলা সাড়ে বারটার সময়ও তিনি মহাখালী যেতে পারেননি। ফলে তার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি বাতিল করতে হয়েছে।
ঈদের আগে ব্যবসায় এ ধরনের ঝামেলার মুখোমুখি হয়ে খুব দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন আরিফুর। কারণ কাজের অর্ডার বাতিল হলে শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধ নিয়ে সমস্যা হতে পারে। শুধু আরিফুর নন, নগরজুড়ে কত না নাগরিক এমন ভোগান্তিতে পড়েছেন তার কোনো হিসাব নেই।
ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো আটকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করায় প্রায় অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ অবরোধ এখনও চলছে। কবে শেষ হচ্ছে জানতে চাই শিক্ষার্থীদের জবাব দাবি আদায় না হওয়ার আগে আর নয়।
উত্তরা, আবদুল্লাহপুর, প্রগতি সরণীর মেরুল বাড্ডা ও রামপুরা, কাকলীতে বিমানবন্দর সড়ক, মহাখালীতে গুলশানমুখী সড়ক এবং ধানমণ্ডির কয়েকটি অংশে শিক্ষার্থীদের অবরোধ ও বিক্ষোভের ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুরু হয় এ ভোগান্তি। এসব সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে আছে গাড়ি। কোথাও কোথাও রোগী নিয়ে আটকে আছে অ্যাম্বুলেন্স। গরম ও জটে অসহনীয় দুর্ভোগে সবাই। তারপরও গন্তব্যে পৌঁছতে হবে, তাই ঘামে ভিজে রুদ্ধশ্বাসে ছুটছেন নগরীর শিশু-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাই।
স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রী, চাকুরে, ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে হেঁটেই রওনা দিয়েছেন যার যার গন্তব্যে। আবার অনেক রাস্তা একেবারে ফাঁকা হয়ে গেছে যানবাহন না থাকায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে বাস না পেয়ে বহু মানুষকে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে স্কুল ফেরত শিশু ও অভিভাবকদের। যারা ঢাকার বাইরে যাওয়ার জন্য বের হয়েছেন তাদের ভোগান্তির এবং বিরক্তিরও শেষ নেই।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আফতাব নগরের ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে এসে রামপুরা ব্রিজ ও মেরুল বাড্ডার মধ্যবর্তী সড়ক অবরোধ করে। বাঁশ নিয়ে আন্দোলনকারীরা রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়। ফলে রামপুরা থেকে প্রগতি সরণী ও রামপুরা থেকে মৌচাকমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। হাতিরঝিল ও বাড্ডা এলাকার বিকল্প সড়কেও প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
কাকলীতে সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায় একই সময়ে মিছিল শুরু করে। সাড়ে ১১টার দিকে পর রাস্তায় কয়েকটি বাস রেখে তৈরি করে ব্যারিকেড। এরপর থেকে বন্ধ হয়ে যায় বিমানবন্দর সড়ক ও সংশ্লিষ্ট সব সড়ক।
মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবুদ্দিন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা গুলশান-২ এ অবস্থান নিয়েছেন। অপরদিকে মহাখালীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথমে তাদের ক্যাম্পাসের সামনে রাস্তা আটকে রাখে। পরে মিছিল নিয়ে গুলশান-১ অবস্থান নেয়। ফলে গুলশান থেকে মহাখালী, বনানী, বারিধারার সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ আছে।
আবদুল্লাহপুর ও হাউজ বিল্ডিং এলাকায় আইইউবিএটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি ও বিইউএফটির শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে টঙ্গী থেকে ঢাকায় আসার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
ধানমণ্ডিতে জিগাতলার উত্তর পাশে ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবরোধে সাত মসজিদ রোডের রাস্তার একপাশ আটকে গেছে। এখানকার ১৫ নম্বর সড়কে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নিয়েছে। ২৭ নম্বর সড়কের দুই পাশে আটকে দিয়েছে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। বাংলাদেশ মেডিকেল, নর্দান, পপুলারসহ বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের অবেরোধে মোহাম্মদপুর থেকে জিগাতলার দিকে এবং শংকর থেকে মিরপুর রোডে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবারও শিক্ষার্থীদের ভ্যাটবিরোধী বিক্ষোভে দিনভর অচল ছিল ঢাকা। রাতে ৮টার দিকে ছাত্ররা সরে গেলেও গভীর রাত পর্যন্ত শহর জুড়ে ছিল প্রচণ্ড যানজট।
ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে গত বুধবার থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার থেকে তিনদিনের ধর্মঘট শুরু করে তারা।

