ঢাকাSaturday , 12 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দু’দিনে ২শ রোগী হাসপাতালে, ওষুধের চরম সঙ্কট

Link Copied!

hospitalগাইবান্ধা প্রতিনিধি : ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে গাইবান্ধায়। জেলা শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃহস্পতিবার থেকে মহামারি আকার ধারণ করেছে রোগটি। ফলে গত দু’দিনের ব্যাবধানে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ শতাধিক রোগী। এর মধ্যে ৫০ জন বাড়ি ফিরতে পারলেও এখনও অন্তত ১৫০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন।
এদিকে, হাসপাতালে একই সময় এতো সংখ্যক রোগী ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেনা কর্তৃপক্ষ। সঙ্কট বেডের। প্রয়োজনের তুলনায় নেই ওষুধ আর স্যালাইনও। ফলে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে রোগির স্বজনদের মাঝে।
হাসপাতাল সূত্র ও রোগীর স্বজনরা জানায়, বুধবার রাতে শহরের পৌর এলাকার থানাপাড়া ও খানকা শরীফ এলাকার কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের দু’টি মেসের কয়েকজন প্রথমে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে ওই দুই পাড়াসহ পশ্চিমপাড়া, কলেজ রোড, পলাশপাড়া, মাস্টারপাড়া, বানিয়ারজান ও গাইবান্ধা পৌর এলাকার অন্যান্য এলাকার ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত অসংখ্য রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে শুরু করে।
গভীর রাতেই মুহূর্তেই গাইবান্ধা হাসপাতালের স্বল্প সংখ্যক ডায়রিয়ার বেড পূর্ণ ‍হয়ে যায়। ফলে বেড না পেয়ে রোগীরা হাসপাতালের মেঝে, করিডোরে অবস্থান নেয়। ওই সময় হাসপাতালে ইমার্জেন্সি বা কোন ওয়ার্ডেই কর্তব্যরত চিকিৎসক ছিলেন না। শুধু দু’জন নার্স এবং গুটি কয়েক ওয়ার্ডবয় গোটা হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম দেখাশোনা করছিলেন। এ অবস্থায় মুহূর্তের মধ্যেই হাসপাতালে সঞ্চিত সামান্য কলেরা স্যালাইনের স্টকও শেষ হয়ে এক দুর্বিসহ অবস্থার সৃষ্টি হয়।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা জানায়, এসব এলাকার পৌরসভার সাপলাই ও টিউবওয়েলের পানি পান করে তারা রাত থেকে সকালের মধ্যই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। পানি খাওয়ার সঙ্গেসঙ্গেই প্রচন্ড পেট ব্যাথা, বমি ও অবিরাম পাতলা পায়খানা হতে শুরু করে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, বিষয়টি সুষ্ঠভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এ ডায়রিয়ার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব না হলেও রোগী ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের কাছে শুনে এবং অবস্থা দৃষ্টে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টিউবওয়েল এবং ওয়াটার সাপলাইয়ের পানি খেয়েই হঠাৎ করেই ডায়রিয়ার প্রকোপ শুরু হয়েছে। বন্যার পানি কোনো কারণে এই সমস্ত উৎসে সম্পৃক্ত হওয়ার ফলেই পানি জীবানুযুক্ত হয়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ, পৌরসভার মেয়র শামছুল আলম, সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা পিয়ারুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা অ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তারা হাসপাতালের বিরাজমান অপরিস্কার অপরিচ্ছন্নতা, প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধের স্টক না থাকা, চিকিৎসকের অনুপস্থিতিসহ সার্বিক অব্যবস্থাপনায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ সময় রোগীদের সঙ্গে আসা লোকজনও অব্যবস্থায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে পৌর মেয়র শামছুল আলম হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্যালাইন সরবরাহ করলে জরুরি চিকিৎসা অব্যাহত থাকে।