ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দুটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী। খানাখন্দে ভরা মহাসড়ক দুটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। গত তিন মাসে ৪০ লক্ষাধিক টাকার জরুরি সংস্কার কাজ হলেও তা বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এন সেভেন এবং এন এইট জিরো ফোর নামের এই মহাসড়ক দুটির ফরিদপুর অংশের অধিকাংশ জায়গায় ব্যাপকভাবে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই। গত মে মাসে স্থানীয় সড়ক বিভাগ মহাসড়কের সিলকোডের কাজ শেষ করলেও তা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে। গত তিন মাসে এই সড়কগুলোতে দৃশ্যমান কোনো কাজ না হওয়ায় খানাখন্দগুলো আরো বড় আকার ধারণ করে এখন বেশিরভাগ স্থানেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ঢাকা থেকে খুলনাগামী সোহাগ পরিবহনের চালক হালিম মিয়া বলেন, প্রতিদিন এই মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোর নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রাংশ, পড়ছে দুর্ঘটনার কবলে। দ্রুত মেরামত না করলে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
সড়কের দুরবস্থার কারণে গত কয়েক মাসে অনেক প্রাণহানি ঘটেছে উল্লেখ করে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আজিজার মোল্লা বলেন, ফরিদপুর থেকে কামারখালী পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে কয়েক হাজার গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এ গর্তগুলো মেরামত করা না হলে দুর্ঘটনা বেড়েই চলবে।
ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকির বেলায়েত হোসেন জানান, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কানাইপুর অংশে সম্প্রতি কিছু কাজ হলেও তা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গেছে।
ফরিদপুর সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মহিবুল্লাহ সুমন বলেন, মহাসড়কে চলাচল নির্বিঘœ করতে চারটি গ্রুপে দিন-রাত কাজ চলছে। অবশ্য মাঝে মধ্যে বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়।
সড়ক বিভাগের ফরিদপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাগুরার ওয়াপদা থেকে রাজবাড়ীর বসন্তপুর পর্যন্ত ৪৯ কিলোমিটার অংশ ফরিদপুর সড়ক বিভাগের মধ্যে পড়েছে। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকা পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার পড়েছে এ সড়ক বিভাগের অধীনে।
ফরিদপুর সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম জানান, ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই মহাসড়ক দুটিতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, ফরিদপুর সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে গত তিন মাসে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক টাকার কাজ হয়েছে।
সড়ক বিভাগ ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘৪-৫ দিন হলো কাজে যোগ দিয়েছি। এরই মধ্যে দুদিন সরেজমিনে মহাসড়ক দুটি পরিদর্শন করেছি। ইতিমধ্যে খানাখন্দ ভরাট করাসহ সড়ক দুটি চলাচলের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, ঈদুল আজহার আগেই সড়কের সমস্যা সমাধান করা যাবে।

