নড়াইল প্রতিনিধি : লোহাগড়া পৌর সভার গোপীনাথপুর গ্রামের সওদাগর পাড়ায় প্রেমের জেরে একজন যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ৩ জনকে আটক করেছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রেম সম্পর্কের জেরে ১ মাস আগে নড়ইলের লোহাগড়া পৌর সভার গোপীনাথপুর গ্রামের সওদাগর পাড়ার ইখলাছ খাঁনের ছেলে খসরু খাঁন (২০) ও মকবুল হোসেনের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে মাহমুদা খানম (১৯) বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পরিবার লোহাগড়া থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেন।
এ নিয়ে এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনা চলে আসছিল। এর জের ধরে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সওদাগর পাড়ায় ইখলাছ খাঁনের দু’ছেলে জুঙ্গু খাঁন ও জুলমত খাঁন সওদাগর পাড়ার শিমুলের চা দোকানে সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা একই পাড়ার সবু মোল্যার ছেলে মাদকাসক্ত রনি মোল্যার নেতৃত্বে সাহিদুল, ওবায়দুলসহ ৭/৮ জন দুর্বৃত্ত জুঙ্গু খাঁন (১৮) ও জুলমত খাঁন (১৪) ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে।
এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০ টার দিকে জুলমত খানের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের লাশের ময়না তদন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে।
অপর আহত কিশোর জুঙ্গু খাঁনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ লুৎফর রহমান হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাতেই ওই গ্রামের মৃত হান্নান মৃধার ছেলে চায়ের দোকানদার শিমুল মৃধা (৩২), সবু মোল্যার ছেলে ওবায়দুল (২২) এবং বৃহস্পতিবার মকবুল হোসেন গোলদারের ছেলে আলামিন গোলদারকে (১৯) আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।’
যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

