রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলায় বন্যাকবলিত এলাকায় গত সাত দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ১৫৬ জনে পৌঁছেছে। আর সর্বশেষ গত রোববার ডায়রিয়ায় ৩৪৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে।
এসব এলাকায় ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৭৭৭টি মেডিক্যাল টিম। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, ডায়রিয়াজনিত সমস্যা খুব মারাত্মক কিছু না। প্রত্যেকেই স্যালাইন খেয়ে সুস্থ হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন পড়েনি।
অধিদফতর জানায়, গত সাত দিনে রাজশাহী জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ২১৮ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৯৮, নাটোরে ১৭০, নওগাঁয় ৫৭৭, পাবনায় ১২৩, সিরাজগঞ্জে ৩২০, বগুড়ায় ২৭০ ও জয়পুরহাটে ১৮০ জন। প্রতিটি জেলার সিভিল সার্জন অফিস থেকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরে এ তথ্য পাঠানো হয়েছে।
প্রতি বছর বন্যায় বাড়িঘর-ভিটেমাটি ভাঙন ও সহায়-সম্পত্তি নষ্ট হয়। এর সঙ্গে দেখা দেয় বিভিন্ন রোগের প্রার্দুভাব। এ বছর উত্তরাঞ্চলসহ সারা দেশে ব্যাপক মাত্রায় বন্যা দেখা দিয়েছে। বিগত এক দশকের তুলনায় এ বছরের বন্যা মারাত্মক।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বন্যায় রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া ও নওগাঁর অনেক অঞ্চল তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। রাজশাহী জেলার চারঘাট, বাঘা, গোদাগাড়ী ও পবার কিছু অংশ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর সঙ্গে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগ।
প্রতি বছরের মত এবছরও রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর বিভাগের প্রতিটি জেলার উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বন্যাকবলিত এলাকায় রোগ প্রতিরোধের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এ টিম বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম জোরদারকরণ, মাইকিং ও অন্যান্য মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সতর্কবাণী প্রচার, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের জন্য সচেতনতা প্রদান করছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার ৬৬টি উপজেলায় মোট ৭৭৭টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এসব মেডিক্যাল টিম বন্যাকবলিত এলাকায় সার্বক্ষণিক যেকোনো পরিস্থতি মোকাবিলায় মাঠে নিয়োজিত আছে।
এর মধ্যে ৪৫৫টি মেডিক্যাল টিম বন্যাকবলিত চারটি জেলায় নিয়োজিত আছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। রাজশাহী জেলার নয়টি উপজেলায় আছে ৮৬টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলায় আছে ৬৪টি, নাটোরের ছয়টি উপজেলায় আছে ৬০টি, নওগাঁর ১১টি উপজেলায় আছে ১২৬টি, পাবনার নয়টি উপজেলায় আছে ১১৪টি, সিরাজগঞ্জের নয়টি উপজেলায় আছে ৯২টি, বগুড়ার ১২টি উপজেলায় আছে ১২৩টি ও জয়পুরহাটের পাঁচটি উপজেলায় ১০৫টি মেডিক্যাল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপরিচালক ডা. মো. গাজীউল আলম বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের মেডিক্যাল টিম সবসময় কাজ করছে। টিমের সদস্যরা সবধরনের তথ্য বিভাগীয় অফিসে পাঠাচ্ছেন।
তিনি বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় রোগের প্রার্দুভাব দূর করার জন্য প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ মজুদ আছে। এ ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও খাবার স্যালাইনও বাফারস্টক হিসেবে মজুদ রাখা হয়েছে।

