নিজস্ব প্রতিবেদক : নওগাঁয় বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাঁধ ভাঙার ফলে গত কয়েক দিনে আত্রাই ও রানীনগর উপজেলার ১০ ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত। এতে প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি।
পানির স্রোতে শতশত কাঁচা বাড়িঘর ও গাছপালা ভেঙে গেছে, কয়েক হাজার বিঘা জমির রোপা আমন ধান ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে এসব এলাকার শতাধিক পুকুরের মাছ। এখনো আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ৩৫ ও ছোট যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যার্ত মানুষগুলো গরু বাছুরসহ অন্যান্য বাঁধে আশ্রয় নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেকেই এখনো কোনো ত্রাণ সামগ্রী পায়নি বা সরকারিভাবে বন্যার্তদের কোন তালিকাও করা হয়নি বলে অভিযোগে করছে। এসব এলাকায় রোগবালায় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি খাবার ও ঔষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানির স্রোতে ফুলবাড়ী গ্রামেই প্রায় ৩০টি পাকা বাড়িঘরও বিলীন হয়ে গেছে।
এই গ্রামে ৩ বছর আগে ৮ লাখ টাকা দিয়ে জমিক্রয় করে মাটি কেটে পাকা বাড়ি নির্মাণ করতে রাসেলের প্রায় ১১ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। তার বাড়িটিও বিলীন হয়ে গেছে বন্যায়।
বানভাসী রাসেল বলেন, ‘ফুলবাড়ী বাঁধ ভাঙায় আমি এখন শেষ হয়ে গেলাম। সামনে ঘোর অন্ধকার দেখছি। আমি এখনো কোনো ত্রাণসামগ্রী পাইনি বা এমন কোনো তালিকায় নামও উঠেনি।’
এখানে আরও ২০/২৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাবার সম্ভবনা খুব বেশি। এছাড়া পানি উঠায় আত্রাই উপজেলার ৪০টি এবং রানীনগর উপজেলার ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আত্রাই উপজেলার বন্যার্ত মানুষের মাঝে জিআর ৪৫ মেট্রিকটন চাল ও ৬৫ হাজার টাকা এবং রানীনগর উপজেলা ৪০ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ৫৩ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ অপ্রতুল বলে অভিযোগ বানভাসী মানুষেদের।
জেলা শহরের সঙ্গে আত্রাই উপজেলাসহ নাটোরের সড়ক যোযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ ছাড়াও মির্জাপুর থেকে শাহাগোলা রাস্তা পানির নীচে তলিয়ে গেছে।
শাহাগোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন চান্দু জানান, ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে শাহাগোলা ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এদের মধ্যে ফুলবাড়ী, উদনপেয়, মিরাপুর, তারাটিয়া, আকবরপুর গ্রামে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এলাকার পাকা বাড়িঘরও বিলীন হয়ে গেছে। এ ইউনিয়নের ২০ হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ত্রাণসমগ্রী যা পেয়েছি তা তুলনায় খুবই কম।
রবিশস্য না উঠা পর্যন্ত বানভাসী এলাকায় আরো বেশি করে ত্রাণসামগ্রী দেয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন।

