নিজস্ব প্রতিবেদক : খোদ রাজধানীতেই তৈরি হচ্ছে ডলার, ইউরোসহ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা। তবে এগুলো আসল নয় নকল। এরকমই একটি চক্রের ছয় সদস্যকে সোমবার রাতে রাজধানীর মিরপুর থেকে প্রায় সোয়া কোটি জাল টাকাসহ আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. বাদশা মিয়া, মো. আ. জলিল, মো. জয়নাল খন্দকার, মো. রায়েজিদ বোস্তামী, মো. মহসিন ওরফে ওয়াসিম ও মো. সোহাগ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১ কোটি ২০ লাখ জালটাকসহ টাকা তৈরির কাগজ, ২০টি ফ্রেম, রঙ, নিরাপত্তা সুতা, ৫টি ল্যাপটপ, ১টি ডেক্সটপ, ৫টি প্রিন্টার ও টাকা তৈরির অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের ডিসি (ডিবি) মো. সাজ্জাদুর রহমান (পশ্চিম) জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত মো. বাদশা মিয়া জানান- দীর্ঘ প্রায় ৯/১০ বছর ধরে সে জালটাকার ব্যবসার সাথে জড়িত। বিভিন্ন সময় সে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে জালটাকা তৈরির কারখানা স্থাপন করে বিপুল পরিমান জালটাকা, ভারতীয় রুপি, ডলার, ইউরোসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মুদ্রা তৈরি করে দেশব্যাপী বিস্তৃত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঢাকাসহ সারাদেশে বাজারজাত করে থাকে।
গ্রেপ্তারকৃতরা আরো জানায়, জাল টাকা তৈরির কার্যক্রম তিনস্থরে বিভক্ত। প্রথমে ধাপের সদস্যদের কাজ হলো টাকার যাবতীয় নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত কাগজ তৈরি করে বাদশা মিয়ার চাহিদা অনুয়ায়ী সরবরাহ করা। পরবর্তী সময়ে মো. বাদশা মিয়া, মো. আ. জলিল, মো. জয়নাল খন্দকার, মো. রায়েজিদ বোস্তামী, মো. মহসিন ওরফে ওয়াসিম এবং মো. সোহাগদের ওই কাগজে কম্পিউটার ও প্রিন্টারের মাধ্যমে টাকার ছাপ দিয়ে টাকা তৈরি করা। অন্য এক গ্রুপের কাজ হলো দেশব্যাপী বিস্তৃত সরবরাহকারী গ্রুপের মাধ্যমে ওই জালটাকা বাজারজাত করা। এই সরবরাহকারী গ্রুপে আছে সহযোগী পলাতক আসামি মাহবুব মোল্লা, সেলিম মিয়া, হানিফ গাজী, জামান, ইমন ও রাজু।
তারা জানায়, মূলত আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে যখন সারাদেশ টাকা পয়সা লেনদেন বেড়ে যায় এই সময় তারা দেশব্যাপী জালটাকা সরবরাহের কাজ করছিল।

