গাইবান্ধা প্রতিনিধি : ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমলেও করতোয়ার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে গাইবান্ধা জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রে গাইবান্ধার ফুলছড়ি পয়েন্টে পানি কমে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং গোবিন্দগঞ্জর কাটাখালী পয়েন্টে করতোয়া নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ঘাঘটের পানির চাপে সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ সাহাবাজ বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেছে। সর্বানন্দ ইউনিয়ন সম্পূর্ণ ও বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দুই তৃতীয়াংশ এলাকার বাড়িঘর ডুবে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ৫ হাজার পরিবার। অধিকাংশ পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে গবাদিপশু নিয়ে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। এসব এলাকার হাজার হাজার একর রোপা আমন ক্ষেত তলিয়ে গেছে।
সুন্দরগঞ্জ আসনের সাংসদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘাঘট নদীর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামত না করায় তা ভেঙে হাজার হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া গোবিন্দগঞ্জের ফুলবাড়ি ইউনিয়নে করতোয়া নদীর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ২০টি গ্রাম ও গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার আরজি খলসি, কালিকাডোবা, চাঁদপুর খলসি এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলার ৪৮ ইউনিয়নের ২১৩টি গ্রামে পানি ঢুকেছে। এসব এলাকায় প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের জন্য এ পর্যন্ত ১৩০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ও নগদ দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

