নিজস্ব প্রতিবেদক : বাম সংগঠনগুলো পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আজিমপুর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
হানিফ বলেন, ‘জাসদ-ন্যাপসহ যারা বাম রাজনীতি করতে ৭২-৭৫ তারা বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরোধিতা করেছিলেন। কেন করেছিলেন? তারাই ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। তাদের ঔদ্ধত্য এমন পর্যায়ে ছিল- একটা সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য যা যা করণীয় তারা তাই করেছিল। জাতির পিতা হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল ঐ সময়ের বাম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজকে আমাদের নেতা শেখ সেলিমের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে বিএনপির বক্তব্যের সঙ্গে সুর মেলানোর যে অভিযোগ করা হচ্ছে- এটার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ইতিহাস যে যেখান থেকে দেখুক না কেন, ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি করার সুযোগ নেই।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য তারা বাজার-হাট লুটপাট করা, ডাকাতি করা, ব্যাংক ডাকাতি, সাধারণ মানুষকে হত্যা করা, আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করা, ঈদের নামাজের জামায়াত শেষে আওয়ামী লীগের এমপিদের হত্যা করা। এ সমস্ত বর্বরোচিত কর্মকাণ্ড করেছিল। লক্ষ্য ছিল একটাই, বঙ্গবন্ধুর সরকারকে অস্থিতিশীল করতে হবে। সেই অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার কারণেই কিন্তু সেই একাত্তরের পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পেরেছিল।’
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আজকে ঐ বাম সংগঠনের অনেক নেতারা ইতিমধ্যেই স্বীকারও করেছেন। তারা বলেছেন, ৭২-৭৫ বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় যা করেছিল তারা তা ভুল করেছিল। কিন্তু সেই ভুলের মাসুল জাতিকে দিতে হয়েছে চড়া দামে।’
হানিফ বলেন, ‘ষড়যন্ত্র এখনো হচ্ছে। পাকিস্তানের নেতৃত্বে তাদের প্রিয় দল জামায়াত, বিএনপি ও খালেদা জিয়া আবার এদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করেছিল। গত ৩/৪ বছর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য নানা ঘটনা ঘটানো হয়েছে। গত কয়েকদিন আগে বিএনপি নেতার মেয়ে ফারজানা জঙ্গী অর্থায়নের অভিযোগ আটক হয়েছে। এই ফারজানারা একজন নয়। বিএনপি-জামায়াতের সংগঠনের নেতৃত্বে এ ধরণের অসংখ্য গ্রুপ আছে, যাদের খুঁজলে দেখা যাবে জঙ্গীবাদে মদদ দিচ্ছে, সহায়তা করছে, পৃষ্ঠপোষকতা করছে।’
আয়োজক কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফারজানা আখতার সুপর্ণার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পী, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শামসুন নাহার বেগম, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন প্রমুখ।

