নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া বাজারের নিরীহ ব্যবসায়ীদের ওপর পুলিশের হামলা ও আটক তিন ব্যবসায়ীকে মুক্তির দাবিতে দোকানপাট বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছে ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে মাইজপাড়া বাজার বণিক সমিতির আহ্বানে এ ধর্মঘট পালিত হচ্ছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সকালে মাইজপাড়া কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র আড়ংগাছা গ্রামের মেহেদী হাসান ও একই কলেজের ছাত্র বোরামারা গ্রামের রাজুর মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তর্কবির্তক হয়। এ ঘটনার জের ধরে উভয় গ্রামের লোকরা দেশীয় রামদা, ঢাল সুরকি ও বল্লবসহ সন্ধ্যা ৭টার দিক মাইজপাড়া বাজারে এসে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় গুরুতর আহত হয় বোরামারা গ্রামের মিরাজ (২২) ও শলুয়া গ্রামের মহিন (২৬)। বাজারের কমপক্ষে ৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরে ঘটনাস্থল বাজারে গিয়ে বেপরোয়াভাবে লাঠিচার্জ করে।
আহতদের নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ব্যবাসয়ীরা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন দোকানে গিয়ে পুলিশ নিরীহ ব্যবসায়ীদের বেপরোয়ভাবে মারপিট করে অন্তত ১০ জন ব্যবসায়ীকে আহত করে। এ সময় ব্যবসায়ী নবকুণ্ডু, সদানন্দ কুণ্ডু ও গোপাল কুণ্ডুসহ ১০ জনকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।
আটককৃত তিন ব্যবসায়ীকে মুক্তি দেয়া না হলে ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বাজার বণিক সমিতির নেতারা।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মতিয়ার রহমান জানান, রাতের বেলা যাদের আটক করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই করে তাদের মধ্য থেকে ৭ ব্যবসায়ীদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
আগামীকাল বুধবার বিকেলে দুপক্ষের লোকদের সঙ্গে বসে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বৈঠক করা হবে বলেও জানান তিনি।

