নিজস্ব প্রতিবেদক : বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পূর্ববর্তী সময়ে তৎকালীন জাসদ ও গণবাহিনীর নেতা হাসানুল হক ইনুর ভূমিকা জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
ওই সময়ে ইনুর ‘নেতিবাচক’ ভূমিকা ছিল অভিযোগ করে দলটি বলছে, এ সম্পর্কে জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার (ইনু) মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করা উচিত।
সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল জাসদ-গণবাহিনীর ইনুরা। তৎকালীন জাসদ ছাত্রলীগের নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ জাসদের উত্থান-পতন নিয়ে একটি বই লিখেছেন। সেখানে এ বিষয়ে বিশদ কথা লেখা আছে। সেই ইনুরাই এখন জাতির পিতা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলে।’
রিপন বলেন, ‘ইনু সাহেবকে বলে দিতে চাই, আপনাদের অপকর্ম সম্পর্কে শুধু আমরাই বলি না। শাসক দলের শীর্ষ পর্যায় থেকেও ৭২-৭৫ পর্যন্ত অপকর্মের কথা এখন প্রতিদিন উচ্চারিত হচ্ছে। সুতরাং বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর যেসব আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীর রক্তক্ষরণ হয়েছে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কথা বলে তাদের কিংবা তাদের স্বজনদের মনের ক্ষোভ দমন করতে পারবেন?’
৭২ থেকে ৭৫ সালে হাসানুল হক ইনুর ভূমিকা জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সময়কালে আপনার কী ভূমিকা ছিল? আপনার গণবাহিনীর কী ভূমিকা ছিল? এগুলো জাতির সামনে স্পষ্ট করা উচিত। তবে যদি মন্ত্রী থাকার ইচ্ছে থাকে, তবে দলের সবার অপকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত। দাবি করছি, যে অভিযোগ জাসদ ও গণবাহিনীর বিরুদ্ধে উঠেছে, তিনি (ইনু) এটার জবাব দেবেন। জবাব দিতে না পারলে তার পদত্যাগ করা বাঞ্ছনীয় হবে।’
ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘একদিকে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের কথা বলা, অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট সৃষ্টিকারীদের ক্ষমতায় রেখে মুজিবের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত বিচার করা সম্ভব নয়। এতে করে তার আত্মা শান্তি পাবে বলে আমি মনে করি না।’
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং সহানুভূতি পেয়ে মন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখতে পরগাছা নেতারা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করেন বলে মন্তব্য করেন রিপন।
তিনি বলেন, ‘ইনু সাহেব বলেছেন, খালেদা জিয়া নাকি গণতন্ত্রের চৌকাঠ দিয়ে পেরিয়ে গেছেন। যারা সন্ত্রাসের রাজনীতি করেছেন, যাদের রাজনীতির সূচনা হচ্ছে সন্ত্রাস দিয়ে; তাদের কাছ থেকে যদি গণতন্ত্রের শিক্ষা নিতে হয়, তার চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কিছু নেই।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দুর্ভাগ্য হচ্ছে, তার মন্ত্রিসভায় এমন সব মন্ত্রীদের ঠাঁই দিয়েছেন, যাদের কেউ কেউ তার প্রয়াত পিতার চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছেন। ৭২ থেকে ৭৫ সালে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য যারা দায়ী ছিলেন, তাদের অন্যতম নেতা ছিলেন হাসানুল হক ইনু। যিনি সেই জাসদের অপভ্রংশের নেতা। এই ইনু এখন গণতন্ত্রের ছবক দেন, যা জাতির জন্য পরিহাস।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান, আবদুল হালিম, দলটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান, সহ-দফতর আবদুল লতিফ জনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

