নিজস্ব প্রতিবেদক : গণতন্ত্র অবরুদ্ধ সম্প্রতি খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, গণতন্ত্রের কপাট খোলাই আছে। গণতন্ত্র অবরুদ্ধ নয়, অবরুদ্ধ জঙ্গীরা।
তিনি বলেন, পেট্টোল বোমা ও গ্রেনেড ছুড়তে ছুড়তে গণতন্ত্রের চৌকাঠের বাইরে চলে গেছেন খালেদা জিয়া। আগুন সন্ত্রাসীরা ওখানেই থাকবে।
চলমান রাজনৈতিক ঘটনাবলি নিয়ে রোববার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
হাসানুল হক ইনু বলেন, যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গিবাদী-মৌলবাদী-আগুনসন্ত্রাসী-খুনী অপরাধীদের জন্য গণতন্ত্রের কপাট কখনই খোলা ছিল না। গণতন্ত্র অপরাধীদের হালাল করার ফর্মূলা না। খালেদা জিয়া এই কথা বলার মাধ্যমেই প্রমাণ করেছেন যে, দেশে অবাধ গণতন্ত্র বিরাজ করছে, মতপ্রকাশের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজ গণতন্ত্রের বন্ধ কপাট খুলে দেওয়ার জন্য মায়াকান্না কি, যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গিবাদ-মৌলবাদী-আগুনসন্ত্রাসী-খুনীদের নিয়ে গণতন্ত্রের বাগানে ঢুকে আবারও গণতন্ত্রের বাগান তছনছ করার দুরভিসন্ধি । সবাইকে নিয়ে নির্বাচনের দাবি, ওই অপশক্তিকে হালাল করার অভিলাষ ? গণতন্ত্র নির্বাচন অপরাধী হালাল করার ফর্মুলা নয়।
খালেদা জিয়ার বক্তব্য গণতন্ত্রের জন্য নয়, তার মনের খেদোক্তি আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে ব্যর্থতা থেকে উৎসারিত। গণতন্ত্র মানে যদি আইনের শাসন হয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হয়, গণমাধ্যম ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হয়, বাক-মুক্তির মত প্রকাশের স্বাধীনতা হয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির শাসন হয়, সংবিধান ও আইন অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়, তাহলে কোথায় গণতন্ত্র অবরুদ্ধ, কোথায় গণতন্ত্রের কপাট বন্ধ প্রশ্ন রাখেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সামরিক শাসনবিরোধী দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং ৯০-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যূত্থানে জনগণের সংগ্রামের কাছে সামরিক শাসনের ধারার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের বন্ধ কপাট খুলে যায়। তবে গণতন্ত্রের মুক্ত কপাট দিয়ে চিহ্নিত গণতন্ত্র বিরোধী শক্তি খুনী-দুর্নীতিবাজ-লুটেরা-সাম্প্রদায়িক শক্তি, জঙ্গিবাদী ও মৌলবাদী শক্তি, যুদ্ধাপরাধীরা গণতন্ত্রের বাগানে প্রবেশ করে গণতন্ত্রের সাজানো বাগান নষ্ট ও তছনছ করা শুরু করে দেয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের বাগান ধ্বংস করতে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা-হত্যা, কিবরিয়া হত্যা, আহসান উল্লাহ মাষ্টার হত্যা, মঞ্জুরুল ইমাম হত্যা, মমতাজ হত্যাসহ অসংখ্য রাজনৈতিক হত্যা, ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী বোমা হামলা, রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হামলা, যশোরে উদীচী মঞ্চে হামলা-হত্যা, সিপিবির জনসভায় বোমা-হত্যা, মেলা, পীর-ফকিরের মাজারে হামলার ঘটনা ঘটে।
মাসের পর মাস ধরে ঘোষণা দিয়ে যাত্রীবাহী বাসে বোমা হামলা, সাধারণ যাত্রীদের পুড়িয়ে মারামহ বীভৎস আগুনসন্ত্রাস চলে।
তিনি বলেন, সংবিধান থেকে জঞ্জাল অপসারণ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর থেকেই গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার জন্য মরিয়া আক্রমণ শুরু হয়। খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘বিএনপি কখনও সন্ত্রাসের রাজনীতি করেনি এবং সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয়ও দেয়নি’ -এটি ডাহা মিথ্যা।
ইনু বলেন, গণতন্ত্র কি আগুনসন্ত্রাসী-যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গিবাদী-মৌলবাদী-সন্ত্রাসবাদী-খুনী-অপরাধীদের হালাল করার ফর্মূলা ? না-কি, গণতন্ত্র মানে আইনের শাসন, ন্যায় বিচার ! গণতন্ত্র, অপরাধী যেই হোক, তাকে হালাল করে না।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া, যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গিবাদী-মৌলবাদীদের হাত ধরে আগুনসন্ত্রাস-নাশকতা-অন্তর্ঘাতের পথে ওয়ানওয়ে টিকেট কেটে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ধ্বংসের পথে যাত্রা করেছিলেন। উনি রিটার্ন টিকেট সঙ্গে নেন নি।

