লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : সদর উপজেলার ভবাণীগঞ্জ ইউনিয়নের চর মনসা গ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে ওই কিশোরী ৬ মাসের অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়ে।
এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর দোষী হাছান আত্মগোপন করলেও তার পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ভিকটিম পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ঘটনাটি ধামা চাপা দিতে হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
এতে করে একদিকে যেমন পেটের সন্তান ও ভিকটিম কিশোরীর জীবন সংশয় দেখা দিয়েছে অন্যদিকে সামাজিক অবস্থান ও নিরাপত্তাহীনতায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন হতদরিদ্র পরিবারটি। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চর মনসা গ্রামের মৃত নজির আহমদের ছেলে হাছান একই গ্রামের ভিকটিমের ভগ্নিপতি রাহাতের বন্ধু হওয়ার সুবাধে ভিকটিম কিশোরীর বাড়িতে প্রায় আসা যাওয়া করতো। এক পর্যায়ে ভিকটিমের সঙ্গে হাছানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে হাছান শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়। এতে ভিকটিম রাজি না হওয়ায় কোরান শপথ করে তাকে বিয়ের প্রলোভনে প্রলুব্ধ করে হাছান। এরপর গত ১৪ সালের এক অক্টোবর তারিখ থেকে ১৫ মার্চ ২০১৫ পর্যন্ত ভিকটিমের বাড়িতে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ৭/৮ বার ধর্ষণ করে। পরে ভিকটিম গর্ভবর্তী হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গত কিছুদিন আগে ভিকটিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তারি পরীক্ষার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে হাছানকে এ বিষয়ে জানালে ও বিয়ের জন্য চাপ দিলে হাছান আত্মগোপন করেন।
এ ঘটনায় বাধ্য হয়ে গত ১৮ আগস্ট ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এ ব্যাপারে ভিকটিমের মা কহিনুর বেগম বলেন, ‘থানায় অভিযোগ দেয়ার পর অভিযুক্ত হাছানের পরিবার আমাদের ৫০ হাজার টাকা দিবে জানিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানির হুমকি ধমকি দিচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত ৫ দিন ধরে অভুক্ত অবস্থায় থেকে দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন আমার মেয়ে।’ একই সঙ্গে প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতায় ওই পরিবারটি মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হাছানের বড় ভাই জামাল জানান, ঘটনার পর থেকে হাছানের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই, তবে হাছান দোষী প্রমাণিত হলে সামাজিকভাবে সেই সিদ্ধান্ত দেয়া হবে তা আমরা মেনে নেব।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন মিয়া জানান, বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

