ভূয়া গোরস্থান, শ্মশান, ঈদগাহ ও কাবিখা কাবিটা প্রকল্পের মাধ্যমে তার যতসব অর্জন
তরিকুল ইসলাম, বরগুনা : বরগুনা জেলার আমতলী পৌর মেয়র মতিয়ারের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ । আমতলী পৌর এলাকার কোথাও কেন্দ্রীয় গোরস্থান বলতে কিছু না থাকলেও কেন্দ্রীয় গোরস্থান, শ্মশান, ঈদগাহে মাটি ভরাট ও গম চুরি করে প্রায় দেড় কোট টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আমতলী পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান। এছাড়া টিআর, কাবিখা, কাবিটা, সাংসদের বিশেষ বরাদ্দ এবং এলজিইডি দপ্তর থেকে ভূয়া ও লোক দেখানো টেন্ডারের মাধ্যমেও লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার এসকল কর্মকান্ডের সহযোগিতায় রয়েছে প্যানেল মেয়র-৩ মোঃ মনিরুল ইসলাম, ১, ২, ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মর্জিনা বেগম, ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর মাসুদা কাদের ও মেসার্স মুরাদ ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী ঠিকাদার হোসাইন সিদ্দিক রেজওয়ান। অভিযোগসূত্রে জানা যায়, ২০১০-১১ অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা-নগদ অর্থ) কর্মসূচির আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের নিমিত্তে স্থানীয় এমপি’র বরাদ্দ অর্থের উপ-বরাদ্দের ৪৫ লাখ টাকার (যার স্মারক নং ৫১.৪৭৯.০১৪.০৩.০০.০০৩.২০১০-১৮৭, ত্রাণ শাখা তারিখ ১২-০৫-২০১১) ২নং প্রকল্পে ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-৩ মোঃ মনিরুল ইসলাম এর সহযোগিতায় কেন্দ্রীয় গোরস্থান মাটি দ্বারা ভরাটের নামে ১০ লাখ টাকা আত্মসাত করে মেয়র মতিয়ার। ২০১১-১২ অর্থবছরে গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় সাংসদের দাখিলকৃত প্রকল্প সমূহ বাস্তবায়নের নিমিত্তে আমতলী উপজেলার প্রকল্প নং ৮-২০১১/১২ বিশেষ ২য় পর্যায়ে উপ বরাদ্দের ১২৫ মেঃ টন গমের ৩৫ মেঃটন গম ১, ২, ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর মর্জিনা বেগমের সহায়তায় আত্মসাত করেন। কিন্তু আমতলী উপজেলায় কেন্দ্রীয় গোরস্থান নামের কোন স্থান কিংবা কবরের অস্তিত্ব নেই বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র। ২০১০-১১ অর্থ বছরে কাবিখা-নগদ টাকা কর্মসূচির আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের নিমিত্তে স্থানীয় সাংসদের উপ-বরাদ্দের (যার স্মারক নং ৫১.৪৭৯.০১৪.০৩.০০.০০৩.২০১০-১৮৭, ত্রাণ শাখা তারিখ ১২-০৫-২০১১) ১নং প্রকল্পে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাটি দ্বারা উন্নয়নের নামে ১০ লাখ টাকা মহিলা কাউন্সিলর (ওয়ার্ড নং ৪, ৫, ৬) মাসুদা কাদের’র সহায়তা আত্মসাত করেন তিনি। ২০১১-১২ অর্থ বছরে কাবিখা প্রকল্পের ১ম পর্যায় (প্রকল্প নং ০৮-২০১১/১২) উপ বরাদ্দের ১২৫ মেঃ টন চাল থেকে (যার স্মারক নং ৫১.০১.৪১০০.০১৪.০০.০০২.২০১১-১৮২ ত্রাণ শাখা তারিখ ১৮/০৩/২০১২) ৫০ মেঃ টন চাল, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাটি দ্বারা উন্নয়নের নামে (আম/উপ/প্রঃনং ০৮-২০১১/১২) ও প্রকল্প নং ০৯-২০১১/১২ আমতলী শ্মশান ঘাট ভরাটের নামে ৫ মেঃটন চাল আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবয়ন কর্মকর্তাও অফিস থেকে উত্তোলন করে মহিলা কাউন্সিলর (৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ড) মাসুদা কাদের’র সহযোগিতায় আত্মসাত করেন পৌর মেয়র মতিয়ার।২০১২-১৩ অর্থ বছরে টিআর কর্মসূচি আওতায় সাধারণ ১ম পর্যায় আমতলী পৌরসভার অনুকুলে বরগুনা জেলা প্রশাসকের দপ্তরের (স্মারক নং ৫১.০১.০০০০.০১২.১৪.০৩১.১২-৪৫৬, তারিখ ১৬/০৯/২০১২ খ্রিঃ) বরাদ্দকৃত চাল থেকে ৬ মেঃটন চাল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ মাটি দ্বারা ভরাট ও ডেজিংকরণের নাম করে আত্মসাত করেন। এছাড়া ২০১২-১৩ অর্থ বছরে পৌরসভা অফিস কম্পাউন্ড এর নামে ভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে গোপনে টেন্ডার আহবান করে ঈদগাহ মাঠ বাবদ ৩৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং পৌরসভা অফিস কম্পাউন্ডে বালি ভরাট বাবদ ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন তিনি। উক্ত টেন্ডার কাজ মেসার্স মুরাদ ট্রেডার্স এর প্রোপ্রাইটর ও ঠিকাদার হোসাইন সিদ্দিক রেজওয়ান’র নামে বরাদ্ধ দেখিয়ে তার স্বাক্ষর জাল করে কোন কাজ না করেই ওই টাকা তিনি আত্মসাত করেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে আমতলী পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান’র প্রতিক্রিয়া জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

