কৃষি ডেস্ক : পেয়ারাকে বলা হয় দেশি আপেল। ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ সুস্বাদু একটি ফল পেয়ারা। দেশি ফলের মধ্যে আমলকির পরে পেয়ারাতেই সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়। ভিটামিন ‘সি’ ছাড়াও পেয়ারাতে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ, স্নেহ, শর্করা ও প্রোটিন রয়েছে। সহজলভ্য এ ফল দেশের প্রায় সব জেলাতেই হয়। তবে বৃহত্তর বরিশালসহ ঢাকার অদূরে নরসিংদী ও গাজীপূরে বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারার চাষ করা হচ্ছে।
জাত:
বাংলাদেশের চাষ উপযোগী অনেকগুলো পেয়ারার জাত আছে। সব জাতের পেয়ারাই ছাদেও চাষ করা সম্ভব। এর মধ্যে এফটিআইপি বাউ পেয়ারা-১ (মিষ্টি), এফটিআইপি বাউ পেয়ারা-৪ (আপেল), এফটিআইপি বাউ পেয়ারা-৫ (ওভাল), এফটিআইপি বাউ পেয়ারা-৬ (জেলি) এবং থাই পেয়ারা উল্লেখযোগ্য । এছাড়াও ইপসা-১ এবং ইপসা-২ পেয়ারাও ভালো জাতের পেয়ারা।
পোয়ারাচাষ পদ্ধতি:
ছাদে বাগানের জন্য ২০ ইঞ্চি কালার ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে। ড্রামের তলায় ৩-৫টি ছিদ্র করে নিতে হবে। যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে। টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে। এবার ২ ভাগ বেলে দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ৪০-৫০ গ্রাম টিএসপি সার এবং ৪০-৫০ গ্রাম পটাশ সার দিয়ে ড্রাম বা টব ভরে পানিতে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে ১০-১২ দিন। এরপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে। যখন মাটি ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ চারা টবে রোপন করতে হবে। চারা রোপনের সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়া যেন মাটি থেকে আলাদা না হয়ে যায়। চারা গাছটিকে সোজা করা লাগাতে হবে। সেই সঙ্গে গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উঁচু করে দিতে হবে এবং মাটি হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে। যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশি পানি না ঢুকতে পারে। একটি সোজা কাঠি দিয়ে গাছটিকে বেঁধে দিতে হবে। চারা লাগানোর পর লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে। শুকিয়ে গেলে অল্প পরিমাণে পানি দিতে হবে। কখনই বেশি পরিমাণে পানি দিয়ে স্যাঁত স্যাঁতে অবস্থায় রাখা যাবে না। গ্রীষ্মকালে গাছ যাতে বেশি শুকিয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে সে সময় সকাল বিকেল দুই বেলা করে পানি দিতে হবে। এখন যেহেতু বর্ষার ভাব আছে তাই অতিরিক্ত পানি না দিলেও চলবে।
অন্যান্য পরিচর্যা:
গাছ লাগানোর ৪/৫ মাস পর থেকে নিয়মিত ১৫-২০ দিন অন্তর অন্তর সরিষার খৈল পচা পানি প্রয়োগ করতে হবে। এ কাজের উপরই ছাদের গাছের ফলন অনেকাংশে নির্ভর করছে। সরিষার খৈল ১০ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর সেই পচা খৈলের পানি পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে। ১ বছর পর টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করে দিতে হবে। ২ ইঞ্চি প্রস্থে এবং ৮ ইঞ্চি গভীরে শিকরসহ মাটি ফেলে দিয়ে নতুন সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে তা ভরে দিতে হবে। ১০-১৫ দিন অন্তর অন্তর টব বা ড্রামের মাটি কিছুটা খুঁচিয়ে দিতে হবে।
ডাল-পালা ছাটাই:
গাছ লাগানোর ২ বছর পর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে পেয়ারার ডাল কেটে দিতে হবে। ছাদের গাছকে যতটা সম্ভব ছোট রাখতে হবে। ডাল-পালা বড় হলে ফলন কম হবে। গাছকে ছোট রাখলেই ছাদের গাছে অধিক ফলন আশা করা যায়।

