গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : মুকসুদপুর নওহাটা এআরএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল দলের খেলোয়াড় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে রাজা মিয়া শেখ (৩৫) নামে ১ জন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
সোমবার সোয়া ১০টার দিকে মুকসুদপুর উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের নওহাট এআরএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাজা মিয়া শেখ (৩৫) ধোপাদী গ্রামের বাদশা শেখের ছেলে।
ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পংকজ কুমার বিশ্বাস জানান, সোমবার বিদ্যালয় মাঠে ৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে জাতীয় স্কুল-মাদরাসার মৌসুমী ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার আগেই আমাদের স্কুলের দলের খেলোয়াড় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নওহাটা ও ধোপাদী গ্রামের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ খবর উভয় গ্রামবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ইউনিয়নের একজন প্রতিনিধি জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার পরপর ওই স্কুল মাঠ দিয়ে ধোপাদী গ্রামের আবুল বশার ও রাজা শেখ হেঁটে যাচ্ছিলেন। তখন নওহাটা গ্রামের ছাত্ররা আবুল বশারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় রাজা মিয়া ঠেকাতে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে আহত করে। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে রাজা শেখ মারা যান।
সংঘর্ষে আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিরুল ইসলাম জানান, নিহত রাজা শেখ হাসপাতালে আসার আগেই মারা গেছেন। বাকি আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। কোনো পক্ষ অভিযোগ দেয়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

