ঢাকাThursday , 13 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চট্টগ্রামে ৯৮ একর জমিতে হবে আইটি পার্ক

Link Copied!

CTGচট্টগ্রাম প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল-বেদখলের প্রতিযোগিতায় থাকা এবং সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ মাদকের আস্তানা ও বস্তি উচ্ছেদ করে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা মূল্যের ১৫৮ একর সরকারি জমি উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
গত বুধবার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বিশেষ সমন্বয় সভায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক এই বিষয়টি উপস্থাপনের পাশাপাশি উক্ত ভূমিতে জেলা প্রশাসনের মালিকানার সাইনবোর্ড টাঙিয়ে এই জমির ক্রয়-বিক্রয়, হস্তান্তর, দখল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ১৫৮ একরের বিশাল এই ভূসম্পত্তি উদ্ধারের পর সেখানে ৯৮ একর ভূমিতে একটি আইটি পার্ক গড়ে তোলার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া অবশিষ্ট জমিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে বিনোদন পার্ক গড়ে তোলা যায় কি না, সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন জানান, বাকলিয়া থানা এলাকায় ১৫৮ একর সরকারি জমি ক্রমেই বেদখল হয়ে যাচ্ছে। সরকারি এই বিপুল সম্পত্তি দখল করে ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যবসা খুলে বসেছে একটি চক্র। এ ছাড়া এখানে অবৈধ বস্তি গড়ে ওঠার ফলে গড়ে উঠেছে মাদকের আস্তানা। বিভিন্ন সময় এখান থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হলেও সরকারি এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি দখলমুক্ত রাখা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা মূল্যের বাকলিয়ার এই সরকারি জমি উদ্ধার করে সেখানে সরকারি স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, ইতিমধ্যে উক্ত জমিতে জেলার প্রশাসনের মালিকানার সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়ে সরকারি জমির ক্রয়-বিক্রয়, দখল, হস্তান্তর নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া এখানকার ৯৮ একর ভূমিতে একটি আইটি পার্ক গড়ে তুলতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘গত বুধবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সব বিভাগের সমন্বয়ে বিশেষ সমন্বয় সভায় এই বিষয়টি উপস্থাপনের পর দ্রুততম সময়ে অবৈধ দখলে থাকা এই জমি পরিদর্শন এবং কী প্রক্রিয়ায় এই বিপুল পরিমাণ জমি উদ্ধার করে দখলমুক্ত রাখা যায়, তার একটি উপায় বের করা হবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে উক্ত জমিতে একটি বিনোদন পার্ক নির্মাণের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।’
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সদর সার্কেলের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সামিউল মাসুদ কর্ণফুলী নদীর তীরে বাকলিয়া থানা এলাকায় মোট ১৫৮ দশমিক ৪৬ একর সরকারি ভূমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর মধ্যে ৫০ দশমিক ৬৪ একর সরকারি ভূমি নিয়ে মামলা আছে। বাকি ভূমি নিয়ে মামলা নেই। স্থানীয়ভাবে ১৫৮ একর ভূমির মূল্য ২ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, বাকলিয়া থানা এলাকায় কর্ণফুলীর তীরে হাজার কোটি টাকার সরকারি জমি দখলের সঙ্গে রয়েছে সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী চক্র। কখনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে আবার কখনো সন্ত্রাস আর মাস্তানি করে এখানকার জমি দখল বেদখল আর ক্রয়-বিক্রয় চলছে দিনের পর দিন। বাস্তুহারাদের বসতি গড়ে তোলার নামে এখানে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে।
এখানে রয়েছে স্কুল, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসাসহ হাজার হাজার বাড়িঘর। শাহ আমানত সেতুসংলগ্ন বাকলিয়া শহীদ এনএমএমজে কলেজ থেকে শুরু করে সৎসঙ্গ মন্দির পর্যন্ত তিন বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে চরের জায়গা অবৈধ দখল করে তাতে এসব স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া রয়েছে শুঁটকিপল্লি, মার্কেট, দাতব্য চিকিৎসালয়, বিদ্যালয়সহ নানা স্থাপনা। এই বস্তিতে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ বাড়িঘর রয়েছে। প্রতিটি ঘর থেকে সমিতির নামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ চাঁদা উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া প্লট ও জায়গা-বাণিজ্যও চলে আসছে নিয়মিত।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘বাকলিয়া থানা এলাকায় ১৫৮ একর সরকারি জমি উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে আমরা শিগগিরই এই ভূমিটি পরিদর্শনে যাব। যেকোনো মূল্যে অবৈধ দখলে থাকা সরকারি জমি দখলমুক্ত করে আইটি পার্ক ও বিনোদন পার্ক গড়ে তোলা হবে।’