ঢাকাWednesday , 12 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্ঘটনা রুখতে তাদের উদ্যোগ

Link Copied!

parbatipur-railরাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী মহানগরীর কাদিরগঞ্জ গ্রেটার রোড মসজিদের বিপরীত পাশে রেলক্রসিং। ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে ট্রেনের ধাক্কায় ওই রেলবক্রসিংয়ে মারা যান সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই রাজশাহীতে কর্মরত মোজাফফর হোসেন। এছাড়াও কোনো ক্রসিংবার না থাকার কারণে প্রায় সেখানে ঘটে ছোটবড় দুর্ঘটনা।
এলাকাবাসী দীর্ঘদিন রেল অথবা সিটি করপোরেশনের কাছে অভিযোগ দিয়ে এসেছে। কোনো লাভ হয়নি। তাই আশেপাশের লোকজন নিজ উদ্যোগে তৈরি করেছেন ক্রসিংবার। ট্রেন আসার সময় সেখানে উপস্থিত লোকজন নিজ দায়িত্বেই হাতল নামিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেন।
শুধু কাদিরগঞ্জ গ্রেটার রোড মসজিদের বিপরীত পাশে রেলক্রসিংই নয়। নগরীর আরো দুইটি রেলক্রসিংয়ে নিজ উদ্যোগে স্থানীয় মানুষ ক্রসিংবার নির্মাণ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। অবশেষে নিজেদের অর্থায়নে ক্রসিংবার তৈরি করেন। তিন মাস আগে লোহার এসব ক্রসিংবারটি নির্মাণ করেন।
কাদিরগঞ্জ গ্রেটার রোড মসজিদের বিপরীতে রেলক্রসিংএর পূর্বপাশে ওয়েল্ডিংয়ের দোকানদার সূর্য নামে এক ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি এ ক্রসিংবারটি নির্মাণ করেন। এরপর থেকে ওই রেলক্রসিংএ কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি।
সূর্য নামে ওই ওয়েল্ডিং মিস্ক্রি জানান, ২০১৪ সালে এ রেলক্রসিংএ দুর্ঘটনায় পড়ে সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই রাজশাহীতে কর্মরত মোজাফফর হোসেন চোখের সামনে মারা যান। এ ঘটনাটি মনকে অনেক নাড়া দেয়। তখন থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ না নিলেও তিনি নিজেই এটি বানাবেন। এরপরেই তিনি কাজ শুরু করেন। অবশেষে ৩ মাস আগে ক্রসিংবারটি নির্মাণ করা হয়। ক্রসিংবারটি রেললাইনের উত্তর পাশে বসানো হয়েছে। খুব শিগগিরই দক্ষিণ পাশে আরো একটি ক্রসিংবার বসানো হবে।
সূর্য আরো জানান, আশেপাশের মুদিখানাসহ কয়েকটি দোকান আছে। সকাল থেকে সারাদিন যখনই ট্রেন যায় তখনই তাদের যে কেউ একজন নিজ উদ্যোগে ক্রসিংবারটি নামিয়ে দেন। রাতে সেখানে একজন নৈশ প্রহরী থাকেন। ওই নৈশ প্রহরী নিজ দায়িত্বেই ট্রেন আসলেই ক্রসিংবার নামান।
ওই এলাকার ঠিকাদার আইনাল (৪০) জানান, সবার সহযোগিতায় ক্রসিংবারটি নির্মাণ করা হয়েছে। ট্রেন যখন আসে তখন যেই জানতে পারে সেই পারাপার হওয়া মানুষকে সতর্ক করতে ক্রসিংবার নামায়।
রেলক্রসিংয়ের পাশে ওয়েল্ডিং দোকানদার বদি, মন্টু, চা বিক্রেতা কটা ও পান দোকানদার সুইট জানান, অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের কারণে চোখের সামনে ঘটে যায় দুর্ঘটনা। এ থেকে সমাধানের জন্য ক্রসিংবারটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ পথচারীরা এখন আর কোনো দুর্ঘটনায় পড়েন না।