চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম মহানগরে আগামী বৃহস্পতিবারের পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে মালিকদের দুটি সংগঠন মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি সড়ক পরিবহন মালিক ফেডারেশন নামে একটি সংগঠন ১০ দফা দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিলেও, তা প্রতিহতের কথা বলছে মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপ নামে অপর সংগঠন।
গতকাল সোমবার নগরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযানের নামে চালক ও মালিকদের হয়রানি বন্ধসহ ১০ দফা দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়।
চট্টগ্রাম সিটি সড়ক পরিবহন মালিক ফেডারেশন নামে মালিকদের ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বুধবারের মধ্যে ১০ দফা দাবি মানা না হলে পরদিন বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম শহরে বাস-মিনিবাস, হিউম্যান হলার, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
পুলিশি হয়রানি, গাড়ি রিকুইজিশন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলে হয়রানি বন্ধসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় থেকে হকার সরানোর দাবি রয়েছে ১০ দফার মধ্যে।
এদিকে এই পরিবহন ধর্মঘটকে অযোক্তিক ও বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র দাবি করে ধর্মঘটের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপ নামে পরিবহন মালিকদের আরেকটি সংগঠন।
মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান একটি সরকারি সিদ্ধান্ত, এ বিষয়ে পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশের অভিযানে চালক ও মালিক হয়রানি হচ্ছে এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।’
তিনি বলেন, ‘শোকের মাস ১৫ আগস্টকে ঘিরে অস্তিরতা তৈরির জন্য, শোকের মাসকে কলঙ্কিত করার জন্য বিএনপি-জামায়াতের দোষরেরা এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। বৃহস্পতিবার জনগণের সেবায় আমাদের গাড়ি রাস্তাতেই থাকবে, কেউ বাধা দিলে প্রতিরোধ করা হবে। বৃহস্পতিবার রাস্তায় গাড়ি নামানোর জন্য সকল গাড়ি মালিককে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।’
আগামীকাল বুধবার বিকেল ৩টায় টাইগারপাস মোড়ে ধর্মঘটের বিরুদ্ধে মালিক-শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবারের ধর্মঘট নিয়ে সিটিবাস ও হিউম্যান হলার চালকরাও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন, আবার অনেকে ধর্মঘট সম্পর্কে জানেনই না। ৩ নম্বর রুটের মিনিবাস চালক শামসুল আলম বলেন, ‘পুলিশ হয়রানি করে বিষয়টি সত্যি, তবে ধর্মঘট চাই না। যে কোনো ধরনের ধর্মঘট মানেই আমাদের পেটে লাথি।’

