গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীতে প্রেমিকাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে এক প্রেমিক। নিহত শান্তা (১৯) নেত্রকোণা সদরের নাগড়া গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল তিনটার মধ্যে যে কোনো সময় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী ও পুলিশ ঘটনাটি ওইদিন রাতে জানতে পায়।
প্রেমিক রোকন মিয়াকে (২৩) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার চকবাজার রাজাপুর গ্রামের সাঈদ মৃধার ছেলে। তারা দুজন টঙ্গীর একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করত।
টঙ্গী থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএএসআই) মোস্তফা কামাল জানান, একই কারখানায় কাজের সুবাদে তারা প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনার দিন রোকন প্রেমিকা শান্তাকে নিয়ে তার বন্ধু মিন্টু মিয়ার বাসায় যায়। মিন্টু টঙ্গীর পাগাড় ঝিনু মার্কেট এলাকার বাবুলের বাসার ভাড়াটিয়া। মিন্টু স্থানীয় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। তিনি তার কর্মস্থলে চলে গেলে রোকন তার প্রেমিকা শান্তাকে ধর্ষণ করে। তাদের দু’জনের মধ্যে প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরে রোকন গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে প্রেমিকা শান্তাকে হত্যা করে।
মিন্টু রাতে তার কর্মস্থল থেকে ফিরে এলে রোকন তাকে ঘরের চাবি বুঝিয়ে দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। রোকনের আচরণ সন্দেহ হলে মিন্টু তাকে এলাকাবাসীর সহায়তায় ঘরে আটকে রাখে। পরে এলাকাবাসী এসে ধর্ষণ ও হত্যার আলামত পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার টার দিকে প্রেমিক রোকনকে গ্রেপ্তার ও নিহত প্রেমিকা শান্তার লাশ উদ্ধার করেন। রোকন ধর্ষণ ও হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
পুলিশ জানায়, এ ব্যাপারে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক প্রেমিককে রোববার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

