খুলনা প্রতিনিধি : পায়ুপথে কম্প্রেসার মেশিনের পাইপ দিয়ে বাতাস ঢোকানোর ফলে পেটে অতিমাত্রায় রক্তক্ষরণে মারা যায় শিশু রাকিব। এছাড়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে নির্যাতনের ফলে তার শরীরের ভেতর এবং বাইরের ক্ষতিগ্রস্থ ১১টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ থেকে প্রতিবেদনটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী মোশতাক আহমেদ সংগ্রহ করেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পায়ুপথ দিয়ে দ্রুত বাতাস ঢোকায় শিশুটির পেটের ভেতরের নাড়ি ও ক্ষুদ্রান্ত ফেটে যায়। পেটের ভেতরে শুরু হয় অতিমাত্রায় রক্তক্ষরণ। এতে মারা যায় শিশু রাকিব। এছাড়া প্রচণ্ড বেগে বাতাস ভেতরে প্রবেশ করায় শিশুটির মলদ্বারও ফেটে যায়। ফুসফুস চুপসে যায়। দুই হাতের ১০টি আঙ্গুল ও দুই পায়ের গোড়ালিতে রক্ত জমে যায়। নির্যাতনের ফলে তার শরীরের ভেতর এবং বাইরের ক্ষতিগ্রস্থ ১১টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন শিশু রাকিবের লাশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেন।
এ ব্যাপারে ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন জানান, বাতাসের আঘাতে শিশু রাকিবের পেটের মধ্যে মলদ্বার থেকে গলা পর্যন্ত ১১ স্থানে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট মোটরসাইকেলে হাওয়া দেয়া কম্প্রেসার মেশিনের পাইপ শিশু রাকিবের পায়ুপথে হাওয়া দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের মোটরসাইকেল গ্যারেজ শরীফ মোটরসের মালিক শরীফ, তার মা বিউটি বেগম এবং সহযোগী মিন্টু মিয়াকে বিক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
এর মধ্যে বিউটি বেগমকে বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। শুক্রবার তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া মামলার প্রধান দুই আসামি শরীফ ও মিন্টু খান এখনও প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

