নিজস্ব প্রতিবেদক : তরুণ ব্লগার ও গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় কর্মী নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়ের শরীরে ধারালো অস্ত্রের ১০ থেকে ১২টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. হাবিবুজ্জামান চৌধুরী। এর মধ্যে চারটি আঘাত গলায় করা হয়েছে। এতেই তার মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার দুপুরে ঢামেকে ব্লগার নিলয়ের ময়না তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
ডা. হাবিবুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘গতকাল খিলগাঁওয়ে ব্লগার নিলয় হত্যার ঘটনাটির ময়না তদন্ত করেছেন ফরেনসিক বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক ডা. হোসেন।’
ডা. হোসেনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্লগার নিলয়ের শরীরে ধারালো অস্ত্রের ১০ থেকে ১২টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার মধ্যে ৪টি আঘাত গলায় করা হয়েছে। বিগত দিনে ব্লগার হত্যার ধরনের সঙ্গে নিলয় হত্যার ধরন এক ছিল। এছাড়া আঘাতের চিহ্নগুলো মাথার ডান দিকে ছিল। ব্লগার অভিজিতসহ অন্যান্য ব্লগারদের আঘাতের চিহ্ন মাথার ডান দিকে ছিল।’
অধ্যাপক হাদিকুজ্জামান চৌধুরী আরো বলেন, ‘ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার গলার হাড়সহ কেটে গেছে। এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিলয়ের হত্যার ধরন দেখে এটা বোঝা গেছে এই মিশনে একাধিক লোক অংশগ্রহণ করেছে।’ময়না তদন্ত শেষে দুপুরে নিলয়ের মরদেহ তার পরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে শুক্রবার রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটের ফরেনসিক দল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গ সূত্র জানায়, ব্লগার নিলয়ের মাথা, গলা, ঘাড়, হাত ও মুখমণ্ডলে অন্তত ২২টি জখম রয়েছে। আঘাতে নিলয়ে মুখমণ্ডল থেঁতলে গেছে। কেটেছে গলার রগ। তার শরীরের নিম্নভাগে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।
উল্লেখ্য, খিলগাঁওয়ের পূর্ব গোড়ানের ৮ নম্বর গলির ১৬৭ নম্বর বাসার পঞ্চমতলায় শুক্রবার দুপুরে ব্লগার নীলাদ্রী চট্টোপাধ্যায় নিলয়কে চার যুবক উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে। এসময় নিলয়ের স্ত্রী আশামনি ও শ্যালিকা তন্বীকে বাসার বারান্দায় আটকিয়ে রাখা হয়। তখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে আশামনি প্রাণপণে চিৎকার করছেন- বাঁচাও, বাঁচাও বলে। কিন্তু তিনি কোনো সাহায্যই পাননি।

