খুলনা প্রতিনিধি : খুলনায় শিশু রাকিব হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী শিশু নাবিল হোসেন (১০) আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
বুধবার বিকেলে সে মহানগর হাকিমের আদালতে এ জবানবন্দি দেন।
আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে নাবিল জানায়, সোমবার বিকেলে সে শরীফ মোটরসের সামনে দিয়ে মামার বাসায় যাচ্ছিল। ওই সময় দোকানের মধ্যে রাকিবের মলদ্বারে পাইপ ঢুকিয়ে মেশিন দিয়ে হাওয়া দিতে দেখতে পায়। তখন আর রাকিব আমারে মাইরেন না বলে চিৎকার করছিল। এরপর রাকিব বমি করলে গ্যারেজ মালিক শরীফ ও মিন্টু তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
নাবিলের আদালতে জবানবন্দি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, তার নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। কারণ তার বাবাকে অনেক অনুরোধ করে তাকে আদালতে নেয়ার ব্যাপারে রাজি করানো হয়। নাবিল নগরীর টুটপাড়া এলাকার নাসেরের ছেলে।
অপরদিকে, শিশু রাকিব হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত এবং হত্যাকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টার অভিযোগে আলী হোসেন নামে এক যুবককে গণধোলাই দেয়া হয়। বুধবার সন্ধ্যার পর নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডে রাকিবদের বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাকিবের খালা রুবি জানান, আলী হোসেন নিজেকে অপরাধ বিচিত্রা পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রথমে রাকিবের বাবাকে বলে, ‘আপনার ছেলেকে তো কেউ মারেনি, অন্য কারণে সে মারা গেছে, বিষয়টি সমঝোতা করে নেন’ এসব কথা বলে তার একটি ছবি চায়। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় তিনি এড়িয়ে যান। এরপর তিনি রাকিবের আরেক খালা তাসলি বেগমকেও একই কথা বললে সবার সন্দেহ হয়। এক পর্যায়ে সে অন্যদের সঙ্গেও তর্কে জড়িয়ে পড়লে তাকে এলাকাবাসী গণধোলাই দেয়। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করে। তবে তিনি রাকিবকে নির্যাতনকারী মিন্টু খানের বন্ধু বলে জানান তিনি।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এলাকাবাসী ভুয়া সাংবাদিক আলী হোসেনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়েছে। তার ব্যাপারে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি টুটপাড়া এলাকায় বসবাস করে বলে জানা গেছে।’
উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট বিকেলে নগরীর টুটপাড়া কবরখানা সংলগ্ন শরীফ মোটরস নামে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজের মধ্যে নিয়ে কিশোর রাকিবের পায়ুপথে কম্প্রেশার মেশিন দিয়ে পেটে হাওয়া দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা গ্যারেজ মালিক ওমর শরীফ ও মিন্টুকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

