নিজস্ব প্রতিবেদক : শশ্রুমণ্ডিত আব্দুর রহমানের বয়স সত্তরের কাছাকাছিই হবে। শারীরিক গঠন খুব যে শক্ত তা নয়। জীবনযুদ্ধে পোড় খাওয়া এই ভদ্রলোক থাকেন বাড্ডা এলাকায়। রোববার সাড়ে ৮টার দিকে বের হন সায়েদাবাদ যাওয়ার জন্য।
রোববার সকালে বাড়ি থেকে বের হন বৃষ্টি মাথায় নিয়ে। উত্তর বাড্ডার মূল রাস্তা থেকে তার বাসা বেশ ভেতরে। দ্বিগুণ ভাড়ায় রিকশায় উঠলেন ঠিকই। কিন্তু ভাঙা রাস্তায় রিকশায় ওঠে যেনো বিপদেই পড়লেন। হাত দিয়ে কাগজ ধরবেন নাকি রিকশার হুড ধরবেন বুঝতে পারছিলেন না। আবার না ধরলেও পড়ে যাবেন রিকশা থেকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, তাকে হতে হলো কাকভেজা।
ভেজা কাপড় নিয়েই তিনি উঠেলেন অনাবিল পরিবহনের একটি গাড়িতে। এই গাড়ি যায় জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত। গাড়িটা বেশ বড়সড়ই। পেছনের দিকে চাপা একটি সিটে বসলেন তিনি।
বিশ্বরোড-নতুন বাজার রাস্তাটি রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও, বাসাবো হয়ে চলে গেছে সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী। রাস্তাটির বেশির ভাগ অংশই মোটামুটি মসৃণ। তবে কয়েকটি স্থানে সৃষ্ট খানাখন্দে যানবাহন চলাচলে খানিকটা ব্যাঘাত ঘটছে।
মহাসড়কে এই ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চলে হেলেদুলে। যাত্রী সাধারণও হেলতে দুলতে থাকেন। কেউ ভয়ও পান উল্টে যাওয়ার আশঙ্কায়। অনেক সময় গর্তে পড়ে গাড়ি যে ঝাঁকি খায় তাতে বাসে থাকা যাত্রীরা ছাদের সঙ্গে বাড়ি খান। অনেকে কোমরেও ব্যাথা পান। কেউ কেউ হয়তো ড্রাইভারকে কটূ কথাও বলে থাকেন।
বৃষ্টির মধ্যেই এগিয়ে চলছে গাড়ি। কিন্তু বাড্ডা লিংক রোডে এসেই ভাঙা রাস্তায় হেলতে দুলতে থাকে গাড়িটি। এই রাস্তার বাম পাশের অনেক অংশেই কার্পেট উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে রাস্তার পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে, বললেন গাড়ির সুপারভাইজার আশরাফ আলী।
লিংক রোড পার হয়ে গাড়ি এলো রামপুর ব্রিজি এলাকায়। ব্রিজের আগে রাস্তায় কার্পেট উঠে গেলেও তেমন বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়নি। রামপুরা-হাজীপাড়া-মালিবাগ চৌধুরী পাড়া পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা ভালোই বলা চলে। তবে চৌধুরীপাড়া পার হওয়ার পরেই যতো বিপত্তি। মালিবাগ রেলগেট মোড় যেন রাস্তা নয়, মরণফাঁদ। পদ্মা সিনেমা হলের সামনে থেকেই চলছে ফ্লাইওভার নির্মাণ। সে কারণে গাড়ি চলাচলের রাস্তা হয়ে গেছে সরু। এই সরু রাস্তা দিয়ে গাড়ি পার হচ্ছে। কিন্তু সৃষ্ট গর্ত, খানাখন্দ যান চলাচলকে আরো মন্থর করে তুলছে।
মালিবাগ মোড়ে এসেই অনাবিল পরিবহনের ওই বাসটি বাম পাশ দিয়ে আরেকটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে পড়ে গেলো এক গর্তে। সেখান থেকে জোরে টান দিতেই পিছনের সব যাত্রী বাড়ি খেলেন ছাদের সঙ্গে। আব্দুর রহমান সিটের সঙ্গে মাথায় বাড়িতো খেলেনই, কোমরেও ব্যাথা পেলেন। রোববার সকালেও বৃষ্টির পর পুরো রাস্তা ছিল জলমগ্ন। গাড়ির চাকার বাড়ি খেয়ে পানি চলে যাচ্ছিল রাস্তার পাশের দোকানে।
মালিবাগ রেলগেট মোড় ওষুধের বাজারের জন্য খ্যাত। এখানে বেশ কয়েকটি দোকান আছে পাইকারি ওষুধের। শামীমা ফার্মেসির মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টিতে এখানে পানি জমে যায়। অনেক গাড়ির চলার সময় পানি সড়ক বেয়ে দোকানেও প্রবেশ করে। খুব ঝামেলায় আছি।’
তিনি বলেন, ‘এই জায়গাটুক সরকার উঁচু করে দিলে আর পানি জমতো না, গাড়ি চলতো ঠিকঠাক মতো।’
বিশ্বরোড থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত রাস্তা তুলনামূলক ভালো হলেও এই রাস্তা ধরে বাড্ডা, রামপুরা, খিলগাঁও, বাসাবো এলাকার ভেতরের দিকে যেসব রোড চলে গেছে সেগুলোর অবস্থা কিন্তু মোটেই ভালো নয়।
উত্তর বাড্ডা থেকে বেরাইদে যে রাস্তা গেছে সেই রাস্তার অনেকাংশই ভাঙা। রামুপরা ব্রিজ থেকে বনশ্রী হয়ে যে রাস্তাটি পূর্ব দিকে চলে গেছে সেটিরও অনেক জায়গায় কার্পেট ওঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
এর মধ্যে হাতিরঝিল থেকে পশ্চিম রামপুরা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। বিশেষ করে মীরেরবাগ মোড়ে রাস্তার অবস্থা এতোটাই খারাপ যে, রিকশায় উঠলে ভাড়া গুণতে হয় আড়াই গুণ। আর একটু বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই।
পূর্ব রামপুরা থেকে যে রাস্তাটি মোল্লাবাড়ী হয়ে বনশ্রী চলে গেছে, জাকের রোড এলাকায় তার অবস্থাও খারাপ। এখানে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে যায়। জাকের রোড এলাকায় স্যুয়ারেজের লাইন ঠিক করা হচ্ছে ৪/৫ মাস থেকে। কিন্তু রাস্তাটি এখনো কার্পেট করা হয়নি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার লিয়াকত আলী বলেন, ‘আমরা তো কেবলই দায়িত্ব নিয়েছি। বাজেট হলো। বরাদ্দ পেলে রাস্তা ঠিক করা হবে।’

