কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় মানবন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ করেছে সিএনজি মালিক অ্যাসোসিয়েশন, অটো মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকার্মীরা।
সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়া মজমপুর গেট থেকে সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে মিছিলটি কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
মানববন্ধন শেষে সমাবেশে বক্তব্য দেন, জেলা সিএনজি মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে জনগণের সবাই কোনো না কোনোভাবে সিএনজি অটোরিকশা ব্যবহারে নির্ভরশীল। এই সিএনজি অটোরিকশা চলাচলের কারণে যেমন যাত্রীদের সুবিধা হয়, তেমনিভাবে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে এখন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অনেকটাই কমে এসেছে। যদি এসব তিন চাকার যানবাহনগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে তাদের আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। এছাড়া এসব চালক-মালিকদের অনেকেই সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়তে পারে।
এ সময় বিক্ষুব্ধরা মহাসড়কের উপর সিএনজি বন্ধ করে সারি করে রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে বড় যানবাহন চলাচলে সমস্যা ও হালকা যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ চালক-মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় কয়েক হাজার সিএনজি, অটো, নসিমন, করিমন চালক, মালিক ও শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মানবন্ধন ও সমাবেশ শেষে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুজিবুল ফেরদৌসের কাছে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।
পরে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফের বাড়ির সামনে এক ঘণ্টা অনশন পালন করে সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
চালকরা জানায়, উপজেলায় বর্তমানে জনগণের সকলেই কোনো না কোনভাবে সিএনজিচালিত আটো রিকশা ব্যবহারে নির্ভরশীল। কিন্তু যোগাযোগমন্ত্রী এসির ঠাণ্ডা রুমের ভেতর বসে থেকে এসব বুঝতে পারছেন না। তার কাছ থেকে সরকারি গাড়ি ও ব্যক্তিগত প্রাইভেট পরিবহন নিয়ে নেয়া হলে তখন তিনিও সিএনজির গুরুত্ব প্রকৃতভাবে বুঝতে পারবেন।
সিএনজি চালাক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অনেক ধারদেনা করে ৫ লাখ টাকা দিয়ে সিএনজি কিনেছি। এখন যদি সড়কে সিএনজি চালাতে না পারি তাহলে আমার ধারদেনা এবং সংসার চালানো দুস্কর হয়ে পড়বে।’
আব্দুল করিম নামে আরেক অটোচালক বলেন, ‘আমি সারাদিনে অটো চালিয়ে যা আয় করি তা দিয়ে আমার সন্তানদের লেখাপড়াসহ কোনো রকমে সংসার চলে যায়। কিন্তু সরকারের এমন সিদ্ধান্তে আমি হতবাক হয়ে পড়েছি। এ অবস্থায় মহাসড়কে সিএনজি অটো চলাচল বন্ধ হলে এ পেশার শ্রমিক ও মালিকরা না খেয়ে থাকতে হবে। অন্যথায় কর্মহীন হয়ে পেট চালাতে চুরি-ডাকাতি অপরাধ কর্মে জড়াতে হবে।’
কুমারখালী উপজেলা সিএনজি চালক সমিতির নেতা রাজু বলেন, ‘পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও কর্ণফুলী নদী এক হয়ে সাগরে মিশেছে। তেমনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়ক ও মিশেছে মহাসড়কে। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যদি সেসব নদীর মোহনা সাগরে মিলতে বন্ধ করতে পারে তাহলে আমরাও মহাসড়কে সিএনজি চলাচল বন্ধ করবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘মহাসড়কে এসব তিন চাকার যানবাহন বন্ধ হলে এ পেশার শ্রমিক ও মালিকরা না খেয়ে থাকতে হবে। অন্যথায় কর্মহীন হয়ে পেট চালাতে চুরি-ডাকাতি অপরাধ কর্মে জড়াতে হবে।’
দৌলতপুর উপজেলা সিএনজি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘দুর্ঘটনারোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সেতুমন্ত্রী শ্রমিক-মালিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হয়ে এমন একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। কিন্তু সেবামূলক এ খাতের প্রধান উপকারভোগী সধারণ মানুষ এবং বিষয়টি সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের স্বার্থ সম্পৃক্ত হলেও তিনি তা করেননি।’ যোগাযোগমন্ত্রীর এই একতরফা ও হঠকারী সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পাশাপাশি মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে বাস্তববসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে শ্রমিকদরদী ও জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেন।

