ঢাকাThursday , 30 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৬৫ কি.মি. দূরে ‘কোমেন’, ব্যাপক প্রস্তুতি

Link Copied!

Jhorচট্টগ্রাম প্রতিনিধি : উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি সামান্য উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর এবং ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ এ পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এটি বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা নাগাদ চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। যেটি বিকেল নাগাদ চট্টগ্রামে আঘাত আনতে পারে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। বৃহস্পতিবার নগরী ও জেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলা আনোয়ারা, বাঁশখালী, সীতাকুন্ড, মিরসরাই ও স্বন্দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দাদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হয়েছে।  জেলা প্রশাসন থেকে বুধবার মধ্যরাত থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে এসব উপজেলায় মাইকিং করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব উল হাসান জানান, সকাল ১০টায় দুর্যোগ মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে জেলা প্রশাসনের এক জরুরী বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সর্তক বার্তা অনুযায়ী, ঘূর্ণীঝড় কোমেন আঘাত আনলে জানমালের নিরাপত্তা ও দুর্যোগ পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের দুর্যোগপূর্ণ ৫ উপজেলা ও মহানগরীর জন্য ২৭৮টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক। এছাড়া দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও খাবার পানি এবং ওষুধ মজুদ রাখা হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে সকাল থেকে জেলা ও মহানগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র জাফর আলম বুধবার রাত ২টায় জানিয়েছেন, ঘূর্ণীঝড় মোকাবেলায় রাত ১টায় বন্দরের জরুরী বৈঠক শেষে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ নম্বর অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। জেটিতে সীমিত আকারে কাজ চললেও কর্ণফুলীর মোহনায় থাকা জাহাজগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া বর্হিনোঙরে অবস্থান করা জাহাজগুলোকে সার্বক্ষণিক ইঞ্জিন চালু রেখে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ম্যানেজার উইং কমান্ডার নুর ই আলম চৌধুরী বলেন, ‘সাত নম্বর সর্তক সংকেত দেখা দিলেও কাল রাত ১১টা থেকে বিমান বন্দরে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। তবে এখনো বিমান বন্দরের অপারেশন স্বাভাবিক রয়েছে।’
এদিকে দুর্যোগ মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্ততি রয়েছে জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব রশীদ আহমেদ বলেন, ঘূর্ণীঝড় মোকবেলায় সিটি করপোরেশন পরিচালিত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবেলায় একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। নগরীর সব স্কুল কলেজে ছুটি ঘোষণা করে সেখানে দুর্গত মানুষজনকে আশ্রয় দিতে বলা হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল বিভাগে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে আবহাওয়া অফিসের এক বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় কোমেন আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর/বিকাল নাগাদ বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে।  ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত রয়েছে। এটি সকাল ১১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৫৪ কি. মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কি.মি. যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ৮৮ কি. মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের নিকটে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের অতিক্রমকালে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ সহ ঘন্টায় ৭০-৯০ কি.মি. বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে চট্রগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমি ধসের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।