ভোলা প্রতিনিধি : উপকূলের ওপর দিয়ে সিডর, আইলা, রেশমী, মহাসেনসহ বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেলেও আজও নির্মিত হয়নি পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র। এতে দুর্যোগের সময় অনিরাপদ হয়ে পেড় ভোলার বিভিন্ন চরের দুই লাখেরও বেশি মানুষের জীবন। আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় ঘূর্ণিঝড় কোমেন আতঙ্কে গত দুই দিন নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে চরবাসী।
বুধবার রাতে চট্টগ্রামসহ ভোলায় সাত নম্বর বিপদ সংকেত জারি করায় জলোচ্ছ্বাস আতঙ্ক দেখা দেয় উপকূলবাসীর মধ্যে। কিন্তু আশ্রয় নেয়ার মতো পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় অনেকেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে পারেনি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মী, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্ধার কর্মীরা কাজ করলেও উপকূলের বিশাল এ জনগোষ্ঠীর জন্য রয়েছে মাত্র ৬৭৫টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ৫২টি মাটির কেল্লা।
যথেষ্ট আশ্রয়কেন্দ্র না থাকলেও দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। মাইকিং করা হয়েছে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায়।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরশাদ আলী জানান, ঝড় মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। উপজেলা সদরের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চরাবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসতে বলা হয়েছে।
এদিকে, রাত থেকেই নদী ও সাগরের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ ফুট উচ্চতায় আছড়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন তীরবর্তী বাসিন্দারা। এতে বাঁধের বাইরের নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।
অন্যদিকে, কোমেনের প্রভাবে ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরায় উপজেলার নদীতে ঘূণিঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে। চরফ্যাশনে থেমে থেমে ভারি বর্ষণ ও ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন মানুষজন। অনেকে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছে। সাগর উপকূলের কুকরী মুকরী ও ঢালচরে আকষ্মিক জোয়ারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে অন্তত অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি। উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছপালা। মাইক ও সাইরেন বাজিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে স্থানীয়দের।
ঢালচর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম পাটোয়ারী জানান, ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে নদী ও সাগর মোহনা। নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে শত শত নৌকা ও ট্রলার। তবে এখনও অনেকে তীরে ফিরে আসতে পারেনি।

