ঢাকাThursday , 30 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কোমেনের আঘাতে নিহত ২, ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

Link Copied!

Coxsbazar-11নিউজ ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় কোমেনের অগ্রভাগ কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ও পুটয়াখালীর গলচিপায় দুই জনের প্রাণহাণির ঘটনা ঘঠেছে। এতে বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছপালা।
প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ:
কক্সবাজার: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় কোমেনের অগ্রভাগ কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও টেকনাফের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হেনেছে। ঘূর্ণিঝড়ে গাছের নিচে চাপা পড়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে চার শতাধিক ঘরবাড়ি। উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছপালা। নিম্নাঞ্চলের ২৮টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হেনে ক্রমশ দুর্বল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানান কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক।
নাজমুল হক জানান, ঘূর্ণিঝড় কোমেন বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও টেকনাফ উপকূলে আঘাত হেনেছে। ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানার সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৫১ থেকে ৬১ কিলোমিটার।
তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার পর ক্রমশ দুর্বল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার উপকূলের পাশ দিয়ে চট্টগ্রাম উপকূলে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল নাগাদ আঘাত হানতে পারে। সকাল সাড়ে ১০টায় ঘূর্ণিঝড়টি বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূল থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।

Coxsbazar-21এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ে টেকনাফ সদর, সেন্টমার্টিন, সাবরাং ও বাহারছড়া ইউনিয়নের শতাধিক ঘরবাড়ি ও অসংখ্য গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে সেন্টমার্টিন দ্বীপে নারকেল গাছ চাপা পড়ে মোহাম্মদ ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বুধবার দুপুর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে। রাতে ঝড়ো হাওয়ার মাত্রা আরও তীব্র হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে ঝড়ো হাওয়ায় উপড়ে যাওয়া নারিকেল গাছ চাপা পড়ে ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়ায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। উপড়ে গেছে দ্বীপের অসংখ্য গাছপালা এবং আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক বসতবাড়ি।
টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম জানান, টেকনাফে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তিন শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অনেকে।
তিনি আরও জানান, উপকূলের মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়াও উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে সরে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা জানান, কক্সবাজারের ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে উপকূলীয় এলাকার ২৮ ইউনিয়নের মানুষকে ৭৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদে সরে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে। আশ্রয় নেয়া লোকজনের চিকিৎসা সেবার জন্য মেডিকেল টিম ও তদারকির জন্য আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আটটি উপজেলার ২৮টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে এ প্লাবন শুরু হয়েছে। যার উচ্চতা ছিল ৪-৫ ফুট।
পটুয়াখালী: ঘূর্ণিঝড় কোমেনের আঘাতে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কল্যাণ কলস গ্রামে নূর ইসলাম নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ঝড়ো বাতাসের কারণে গাছের নিচে চাপা পড়ে তিনি মারা যান।

Coxsbazar-22এদিকে, ঘূর্ণিঝড় কোমেন আতঙ্কে পটুয়াখালীর উপকূলের মানুষেরা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। ইতিমধ্যে সাগরতীরের মানুষগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে শুরু করেছে। এছাড়া সাগর ও নদীতে মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদে তীরে ফিরে এসেছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে জেলার অভ্যান্তরীণ ও দূরপাল্লার সব ধরনের নৌযান।