ঢাকাMonday , 27 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুপার রিফাইনারীর এমডি, স্ত্রী ও সন্তানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

Link Copied!

super_refineryচট্টগ্রাম প্রতিনিধি : এলিট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপার রিফাইনারি প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আহমেদ ও তার স্ত্রী-পুত্রের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার দুপুর একটার দিকে নগরীর বায়েজিদ থানায় এ মামলা তিনটি দায়ের করেন দুদদ প্রধান কার্যালয়ের উপ পরিচালক মীর্জা জাহেদুল আলম।
দায়ের করা তিন মামলার মধ্যে দু’টিতে সেলিম আহমেদ ও তার স্ত্রী লুৎফুন্নেছা আহমেদ এবং অপরটিতে তাদের সন্তান সাজির আহমেদকে আসামি করা হয়েছে। লুৎফুন্নেছা প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এবং সাজির প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক। এরআগে বৃহস্পতিবার মামলা তিনটি অনুমোদন দেয় দুদকের প্রধান কার্যালয়।
আসামীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৪২০, ৪০৬ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বায়েজিদ  থানার ওসি প্রদীপ চন্দ্র দাশ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সুপার রিফাইনারীর এমডি, স্ত্রী ও সন্তানের বিরুদ্ধে দুদক তিনটি মামলা দায়ের করেছে। এখন মামলাগুলো তারাই তদন্ত করবে।’
দুদক সূত্রে জানা যায়, মামলায় সেলিম আহেমদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে কনডেনসেট (গাদ জ্বালানি ) বিক্রি করে সরকারের প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা কর ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী জ্বালানি তেলের কাঁচামাল পরিশোধন করে সরকার নির্ধারিত পাঁচ শতাংশের বেশি অপচয় দেখিয়ে একদিকে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও খোলাবাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হয়। গত ২০০৭-০৮ অর্থবছর থেকে ২০০৯-১০ অর্থবছর পর্যন্ত তিন বছরে মোট ৩ কোটি ৬০ লাখ ৬৫ হাজার ৫৭৪ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়।
অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে সরকারের সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করে অসাধু মনোভাব নিয়ে ওই পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করেছেন। চট্টগ্রামের সুপার রিফাইনারি প্রাইভেট লিমিটেড এলিট গ্রুপের একটি সহযোগী কোম্পানি। এ কোম্পানির এমডি সেলিম আহমেদ এলিট গ্রুপের কর্ণধার।
জানা গেছে, সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বিদেশ থেকে জ্বালানি তেলের কাঁচামাল আমদানি করে তা পরিশোধন করে সরকারের জ্বালানি তেল বিক্রয় কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করার কথা ছিল। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম হচ্ছে, পরিশোধনের ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশের বেশি অপচয় দেখানো যাবে না। এ ক্ষেত্রে অযৌক্তিকভাবে পাঁচ শতাংশের বেশি অপচয় দেখিয়ে অতিরিক্ত অপচয়ের অংশের পরিশোধিত তেল খোলা বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এ অতিরিক্ত তেলের নির্ধারিত ভ্যাটও ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে ভ্যাট ফাঁকির তথ্য-প্রমাণ মিলার পর মামলার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।
দুদকের অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩২৫ লিটার কনডেনসেট (গাদ জ্বালানি) পরিশোধনের ক্ষেত্রে ১৬ লাখ ৮৬ হাজার ২৯০ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়। এ পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে সুপার রিফাইনারির এমডি সেলিম আহমেদ এবং কোম্পানির চেয়ারম্যান ও সেলিম আহমেদের স্ত্রী লুৎফুন্নেছা আহমেদকে আসামি করা হচ্ছে।
২০০৮-০৯ অর্থবছরে ৩৬ লাখ ২৭ হাজার ৯৫০ লিটার কনডেনসেট পরিশোধনে ২ কোটি ১৭ লাখ ৭৫ হাজার ৩১৮ টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে কোম্পানির এমডি ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হবে।
একইভাবে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২২ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯৯ লিটার কনডেনসেট পরিশোধনের ক্ষেত্রে ১ কোটি ২৬ লাখ ৩ হাজার ৯৬৬ টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে কোম্পানির এমডি সেলিম আহমেদ, চেয়ারম্যান লুৎফুন্নেছা আহমেদ ও কোম্পানির পরিচালক সেলিম আহমেদের ছেলে সাজির আহমেদকে অন্য আরেকটি মামলায় আসামি করা হয়েছে।