নিজস্ব প্রতিবেদক : পুরান ঢাকার লালবাগের শহীদনগরে মঙ্গলবার মধ্যরাতে তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি সৈকত ইসলাম রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদিকে খোকন নামে মামলার অপর এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে লালবাগ থানা পুলিশ।
লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘খোকনকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরদিকে রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন এই ঘটনার আর কোনো রহস্যই নেই। ওই তরুণী যে অভিযোগ করেছে তা পুরোপুরি সত্যি।’
মুন্না নামে অপর ধর্ষককে পুলিশ গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
লালবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে- মামলার এজহারে ওই তরুণী অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে এক ছেলেবন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন তিনি।
এরপর বুধবার রাতে তিনজনকে অভিযুক্ত করে লালবাগ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন ওই তরুণী।
এই মামলার আসামিরা হলেন, সৈকত ইসলাম রানা, মুন্না ও খোকন।
ঘটনার পর বুধবার সৈকতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে খোকনও গ্রেপ্তার হন। তবে মুন্না এখনো পলাতক।
এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওইদিন বিকেলে গাবতলীর বাগবাড়ীর বাসা থেকে ছেলে বন্ধুর সঙ্গে বের হন তিনি। সন্ধ্যার পর বন্ধুর এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যান। এরপর মধ্যরাতে ফেরার পথে লালবাগের শহীদনগরের লোহার ব্রিজের পাশে অবস্থান করেন। সেখানে ছেলে বন্ধুটি তাকে রেখে পানি কিনতে যান। ওই সময় তরুণীকে একা পেয়ে তিন যুবক তাকে একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ছেলে বন্ধুটি পানি নিয়ে এসে তরুণীকে না পেয়ে টহল পুলিশের সহায়তা নিয়ে খোঁজাখুজি শুরু করে। এরপর ভোরে ওই ভবন থেকে পুলিশ তরুণীকে উদ্ধার করে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ওই তরুণী এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সমন্বয়ক বিলকিস বেগম বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহ সময় লাগবে। সেই হিসেবে আগামী বৃহস্পতিবার রিপোর্ট পাওয়া যাবে।

