নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমানকে ‘নেতৃত্ব’ দিয়েছেন আসল বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত কামরুল হাসান নাসিম। তাম্রলিপি প্রকাশনী সম্প্রতি নাসিমের ‘নেতৃত্ব’ বইটি প্রকাশ করে।
মাহাবুবর রহমানকে ‘নেতৃত্ব’ বইটি হাতে তুলে দিয়ে নাসিম ফেসবুকে ছবি দিয়েছেন। আর ছবির সঙ্গে দেয়া স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-
‘নেতৃত্ব’- তাম্রলিপি প্রকাশনার ব্যতিক্রমী প্রয়াস বলেই পাঠক পর্যায় হতে অভিমত আসছে। রাজনীতিকদের পর্যায়ে পুস্তকটি বিতরণে খুব বেশী সুযোগ আমার না হয়ে ঊঠলেও আজ দলের(বিএনপি) সজ্জন ব্যক্তি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেঃ জেঃ মাহবুবুর রহমান কে বইটি দেয়ার বাস্তবতায় পৌঁছান গেল।
কথা হলো ‘নেতৃত্ব’ বইটি সহ সারাবিশ্বের নেতৃত্ব ও শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কিত। বাংলাদেশের রাজনীতি, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কেমন করছে- তা নিয়েও। নিজ দলের ভেতরকার অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ফেরত আনার জন্য আমি আপসহীন- তা একজন ‘বাবা’ জেনারেল মাহবুব কে আজো বলেছি।
‘নেতৃত্ব’ বইটির ৬ নং অনুচ্ছেদে আমি বলেছি, ” যেকোনো পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের লড়াইয়ে তুমি জিতলে বীর আর হেরে গেলেই ঘাতক”। সেটি তুলে ধরে শ্রদ্ধেয় জেনারেল মাহবুব কে বললাম, “সময় এসেছে আপনাদের মতো জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের আজকের মেধাবী তরুণদের উন্নত চিন্তাকে সম্মান করা। খানিকটা ঝুঁকি নেয়া। আমাদের মাথায় হাত রাখা। কারণ, বিএনপির মধ্যকার একটি ‘দলীয় বিপ্লব’ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে”।
আমি বলেছি তাঁকে- “আমরা অবগত বা বুঝি- আগামীকাল জাতীয় নির্বাচন হলে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হবে। কিন্তু আমার প্রশ্ন- আমরা কি জনস্বার্থ সংরক্ষনে কিছু দাঁড় করাতে পেরেছি। বর্তমান সরকার তো তাও মন্দের ভাল অর্থনীতি দাঁড় করিয়েছেন- আমরা কি করছি! অথচ- ২০২৫ সালের মধ্যেই দেশ উচ্চ আয়ের রাষ্ট্র হতে পারে। সঙ্গত কারণেই প্রাসঙ্গিকতাকে ধারণ করে একজন ‘জিয়া’ দলের মধ্যে ফেরত এলে আমরা রাষ্ট্রীয় সেবায় যেতেই পারি অহংকারের সাথে। অর্থাৎ আমাদের অন্ধ সমর্থকদের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন- কার্যকরী সমর্থন। ভাল লাগুক আর খারাপ লাগুক- দলের ‘মা’ বেগম জিয়া ও ভাই ‘তারেক রহমান’ কে নতুন নেতৃত্বের ‘পিছনেই আপাত ঠিকানা’ হিসাবে জায়গা করতে হবে। তার মানে এই নয় যে, কখনো জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরীরা শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে পারবে না! অবশ্যই পারবে। একসময় কোয়ালিটি নিদর্শনে জায়মা রহমানও যদি আগামী ১০০ বছরের ভিশন নিয়ে রাজনীতিতে আসতে চায়- তবে তাঁকে স্যালুট করার সংস্কৃতিতে যাওয়ায় যায়। কিন্তু এই মুহূর্তে শাসক শ্রেণির সঙ্গে হাত মিলিয়ে নয়, আদর্শিক চেতনার জায়গায় একাট্টা থেকে বিএনপিকে ঢেলে সাজানোই লক্ষ্য হওয়া উচিত। দলের মধ্যকার মীরজাফর আছে- তা বলেছি জেনারেল মাহবুবকে। বলেছি এটিও- আমি হোমিও প্যাথি দিয়েছিলাম, আপনারা এখন ভালই বলছেন। ঈদের পরই আমি এলোপ্যাথি ছাড়ছি। দোয়া করবেন।”
জেনারেল মাহবুব বলেছেন, “নেতৃত্বেই সমস্যা। নাসিমের চিন্তায় অনেকেই আসবেন। ভাল কিছুই হোক।”
আমি বলেছি- ১//১১ তে সংস্কার সফল হয় নাই, কারণ ছিল তা গোয়েন্দা সংস্থার চাপিয়ে দেয়া কার্যক্রম। কিন্তু প্রয়াত মান্নান ভুঁইয়া আদর্শিক ভাবেই তা চেয়েছিলেন বলে- তিনিই বাংলাদেশে বেঁচে থাকবেন, খন্দকার দেলোয়ারদের ভুলে যাবো আমরা! সব মিলিয়ে বলেছি- আবেগ ও বিবেক দিয়ে আমি সাহসী ভুমিকায় রয়েছি এবং থাকবো। সময় মতো আপনাদের সামনে রেখেই নতুনেরা কিছু শিখুক। আমি দুই ধারাতেই রয়েছি। প্রচলিত ও অপ্রচলিত। দুটোর কম্বিনেশনে আমাকে রোখা কারোর জন্য সহজ হবে না।
– কামরুল হাসান নাসিম।
বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা, মুখপাত্র- বিএনপি।’

