রংপুর প্রতিনিধি : মিঠাপুকুরের জায়গীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি ও উপবৃত্তির টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবকেরা রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফিতে অতিরিক্ত হারে টাকা আদায় করা হয়েছে।
ফি আদায়ের ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সাত টাকা করে ফি নেয়ার কথা থাকলেও নেয়া হয়েছে ১৫ টাকা। দ্বিতীয় শ্রেণিতেও নেয়া হয়েছে ১৫ টাকা। তৃতীয় শ্রেণিতে সরকারি নিয়মানুযায়ী ১২ টাকার পরিবর্তে অতিরিক্ত ১৩ টাকা অর্থাৎ ২৫ টাকা নেয়া হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণিতে ১৫ টাকার পরিবর্তে ২৫ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ২০ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা হারে পরীক্ষার ফি আদায় করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক আখতারুজ্জামান নিজেই এসব অতিরিক্ত ফির ভাগ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে সহকারী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক নিজেই আইন মানেন না। তাকে আইন দেখিয়ে কী লাভ? ফি আদায়ে অতিরিক্ত যা এসেছে সবই তার পকেটস্থ হয়েছে। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকাও ওই শিক্ষক ‘হজম’ করে বসে আছেন বলে জানান তিনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনেক শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয় ত্যাগ করে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও প্রধান শিক্ষক তাদের নাম দিয়ে ‘ম্যানেজ মিশনের’ মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে আসছেন।
সূত্র জানায়, সরকারি বিদ্যালয়ের যেসব সংস্কারের বরাদ্দ অর্থ আসে তা বিদ্যালয়ের কাজ না করে সিংহ ভাগ টাকাই তিনি দুর্নীতির আড়ালে আত্মসাৎ করেন।
অভিভাবক মোন্নাফ মিয়া জানান, প্রধান শিক্ষক অনেক অনিয়ম করে শিক্ষার্থীদর নামে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া উপবৃত্তির তালিকায় নাম থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী উপবৃত্তির টাকা পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তালিকায় নাম থাকার পরও উপবৃত্তির টাকা না পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে- রুমানা খাতুন, রবিউল ইসলাম, রেজাউল, মুন্নি বেগম, আনোয়ারুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, শফিকুল ইসলাম, নিজামুল ইসলাম, রফিকুল, আলিম প্রমুখ।
এসব শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, স্যার তো ঠিকমতো স্কুলেই আসেন না। আবার যদিও আসেন এসময় তিনি আমাদের এটা ভুল, ওটা ভুল এসব কথা বলে একটার পর একটা অজুহাত দেখান। একারণে আমরা অনেকেই এখনো টাকা পাইনি।
এদিকে, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আখতারুজ্জামান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
মিঠাপুকুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিন ভুইয়া জানান, অভিভাবকরা আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। যদি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ মেলে তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

