নিজস্ব প্রতিবেদক : ধর্মের পবিত্রতা রক্ষার নামে এক দল উগ্রবাদি জঙ্গিগোষ্ঠি মুক্তচিন্তার অধিকারী ব্যক্তিদের অব্যাহতভাবে হত্যা ও হত্যার হুমকি দিয়ে চলেছে। অথচ তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। বিষয়টি শুধু বিস্ময়কর নয়, অগ্রহণযোগ্য।
এভাবেই উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে ধর্মীয় উগ্রবাদিদের দেয়া সর্বশেষ ২৫জন বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্টজনকে হত্যার হুমকীর প্রতিবাদে সরকারের উদ্দেশে যুক্তবিবৃতি দিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনরা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন-ড. আনিসুজ্জামান, সুলতানা কামাল, অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সৈয়দ শামসুল হক, অজয় রায়, ডা. সারওয়ার আলী, লে.জে (অব.) কেএম শফিউল্লাহ, অধ্যাপক ড. অজয় রায়, বিচারপতি এবাদুল হক, অধ্যাপক ড. হায়াৎ মামুদ, জিয়াউদ্দিন তারেক আলী, আবেদ খান, শামসুজ্জামান খান, অধ্যাপক এমএম আকাশ, আয়শা খানম, আবুল মোমেন ও প্রফেসর ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার।
শনিবার সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তারা বলেছেন, রাজীব, অভিজিৎ থেকে শুরু করে সর্বশেষ সিলেটের অনন্তকে হুমকির পর হত্যা এবং তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ দশ জন এবং সর্বশেষ দেশের ২৫ জন খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্টজনকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে, যা গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্ঠি করেছে।
বিবৃতিদাতারা বলেন, এখন পর্যন্ত পূর্বোক্ত হত্যাকাণ্ড এবং যারা নির্বিবাদে হুমকি দিয়ে চলেছে তাদের আইনের প্রক্রিয়ায় আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। বিষয়টি শুধু বিস্ময়কর নয়, অগ্রহণযোগ্য বলে মনে হচ্ছে।
বিবৃতিতে তারা বলেন, নাগরিকদের জীবন রক্ষা রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব। সেই দায়িত্বে অবহেলা বা ব্যর্থতার কোন স্থান নেই।
যারা একের পর এক হত্যার হুমকি দিয়ে চলেছে তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, যাদেরকে হুমকি দেয়া হয়েছে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যারা আজ ধর্মের নামে এই হুমকি দিয়ে চলেছে প্রকৃতপক্ষে তারা দেশের স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করে দেশকে জঙ্গিবাদিদের অভয়ারণ্যে পরিণত করতে ও সাম্প্রদায়িকতার আবর্তে জড়িয়ে ফেলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ধ্বংস করতে চায়।
তাদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সকল গণতন্ত্রকামী ব্যক্তি ও শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বিশিষ্ট জনেরা।
প্রসঙ্গত আনসারুল্লাহ বাংলাটিম-১৩ এর সর্বশেষ হুমকীর শিকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা হলেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান, ঢাবির ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাহরিয়ার কবির, মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষক অধ্যাপক জাফর ইকবাল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন বাচ্চু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দ্র মজুমদার, উপস্থাপিকা নবনীতা চৌধুরী, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের নেতা কামাল পাশা চৌধুরী, দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সাংবাদিক শাহীন রেজা নুর, গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী মাহমুদুল হক মুন্সী বাঁধন, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, ব্লগার কানিজ আকলিম সুলতানা, গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী এসএম শাহীন, আমেরিকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক আরাফাত রহমান, সাংবাদিক মুন্নী সাহা, বৈশাখী টেলিভিশনের সিইও মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও সঙ্গীতা ইমাম। এই তালিকা আরও বড় হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

