নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রক্রিয়াজাত খাবারে মাত্রাতিরিক্ত কেমিক্যাল ও খাওয়ার অনুপযুক্ত রঙ ব্যবহারে শিশুসহ সবার স্বাস্থ্য হুমকীর মুখে। তাই ভেজাল খাদ্য তৈরি ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এবং ভেজালরোধে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ মুক্তি ভবন মিলনায়তনে ‘রমজান মাসে নিরাপদ খাদ্য-পানীয় বিষয়ে ক্রেতা-ভোক্তার সচেতনতা’ শীর্ষক এক সেমিনার আলোচকরা এমন মত ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এ সেমিনারের আয়োজন করে।
বাপার নিরাপদ খাদ্য-পানীয় ও ভোক্তা অধিকার কর্মসূচির সদস্য সচিব জাহেদুর রহমান বলেছেন- ‘প্রক্রিয়াজাত খাবারে মাত্রাতিরিক্ত কেমিক্যাল ও খাওয়ার অনুপযুক্ত রঙের ব্যবহার শিশুসহ জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকি। এসব খাদ্য গ্রহণের ফলে ক্যানসার, গ্যাস্ট্রিক, কলেরা, জন্ডিস, লিভার সিরোসিস, হার্ট ডিজিজ, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা ও নানা ধরনের চর্মরোগ হতে পারে। একই সঙ্গে জন্মগতভাবে মানসিক প্রতিবন্ধী ও পঙ্গু শিশু জন্ম নিতে পারে। তাই খাদ্য নিয়ে এসব প্রতারণা বন্ধ হওয়া উচিৎ।’
নিরাপদ খাবারের জন্য খাদ্যের মান ও খাদ্যের নিরাপত্তা দুই-ই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘নিম্নমান সম্পন্ন ও ভেজাল খাবার বিক্রি, রাস্তার পাশের খোলা খাবারে ধূলাবালি ও মশা-মাছির সংক্রমন, শাকসবজিতে বিষাক্ত কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে ভেজাল রোধসহ খাদ্যে বিষাক্ত কেমিক্যালের মিশ্রন অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’
এসময় ক্রেতা-বিক্রেতাকে সচেতন ও দায়িত্ববান হওয়ারও আহ্বান জানান জাহেদুর।
বাপার সহ-সভাপতি অধ্যাপক কাজী সালেহ আহমেদ বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও মানুষ নিরাপদ খাবার নিয়ে এত ভীত নয়। অথচ আমাদের দেশের কিছু অসাধু-মুনাফালোভী ব্যক্তি ও সংগঠনের জন্য সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। ভেজাল খাদ্যের কারণে শিশুসহ সকলে আজ স্বাস্থ্য হুমকীর মুখে। তাই ভেজাল খাদ্য তৈরি ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
ভেজালরোধে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের প্রিন্সিপাল বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আবদুস সাত্তার মিয়া বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা একটি চ্যালেঞ্জিং ইস্যু। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিতকরণের জন্য ধারাবাহিক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি। এজন্য নিরাপদ খাদ্য বিষয়টি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। উপজেলা-জেলা-বিভাগীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সচেতনতামূলক কর্মশালা গ্রহণ করতে হবে।’
নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে আরো ব্যাপক প্রচারণা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।
সেমিনার থেকে দাবি জানিয়ে আরো বলা হয়, খাদ্য ও পানীয়ে ভেজাল বিরোধী সরকারি অভিযান নিয়মিতকরণ, জোরদার ও বিস্তৃত করতে হবে; খাদ্যের আদর্শমান নিয়ন্ত্রণে একটি স্বতন্ত্র রেগুলেটরি কমিশন গঠন এবং জাতীয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে উচ্চমানের ল্যাবরেটরি স্থাপন করতে হবে; ভেজাল খাদ্য সম্পর্কিত অভিযোগ জানানোর জন্য সরকারি অভিযোগ কেন্দ্র গঠন করতে হবে; ভেজাল খাদ্য প্রস্তুতকারী, সরবরাহকারী ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাপার সহসভাপতি অধ্যাপক কাজী সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন- বাপার যুগ্মসম্পাদক হুমায়ন কবির সুমন, পিসের মহাসচিব ইফমা হোসেন, ইউনাইটেড পিপলস ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী মো. আলী হাজারী প্রমুখ।

