অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : তৈরি পোশাক, চামড়া, পাট ও হিমায়িত খাদ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখি শিল্পে প্রবৃদ্ধি কমায় হতাশ রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ব্যাবসায়ীরা। রপ্তানিমুখি শিল্পে উৎসে কর কমানোসহ ৭ দফা দাবিও জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিএমইএ কনফারেন্স লাউঞ্জে প্রস্তাবিত বাজেট (২০১৫-১৬) রপ্তানিমুখি শিল্প বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘চলতি বছরের প্রথম তিনমাস হরতাল অবরোধ কর্মসূচির মধ্যেও আমরা ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। ওই তিন মাসের ক্ষতি আমরা কাটিয়ে উঠতে পারিনি। বর্তমানে রপ্তানিমুখি শিল্পখাতে নানামুখি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মধ্য দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। সম্প্রতি ঘোষিত প্রস্তাবিত বাজেটে রপ্তানি খাতে সহায়ক ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কিছু সংশোধন ও সংযোজন অপরিহার্য।’
তিনি বলেন, ‘দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ আসে পোশাক রপ্তানি থেকে। কিন্তু চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমেছে। যেখানে ভিয়েতনামের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ২৮ শতাংশ, ভারতের ১০ দশমিক ৫৮, পাকিস্তানের ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশের মাত্র ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।’
হতাশা প্রকাশ করে মুর্শেদী বলেন, ‘রপ্তানিনির্ভর পণ্য উৎপাদনে মজুরি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পরিবহন, বাড়িভাড়াসহ গড়ে উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে ১০ শতাংশ। সে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি মূল্য কমে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে ডলারের বিপরীতে প্রধান মুদ্রাগুলোর অবমূল্যায়ন হচ্ছে। গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে প্রতিযোগী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের মুদ্রার তুলনায় টাকার মান কমেছে ১ দশমিক ৯১ শতাংশ।’
আন্তর্জাতিক বাজার সুবিধা থেকেও দেশীয় ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত বছরের জানুয়ারি থেকে পাকিস্তান ইইউ জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার ফলে পাকিস্তানি পণ্য ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে ভারত ও ভিয়েতনাম ইইউর বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা চলছে। যেখানে ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পায়, যেখানে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। আর এসব নানাবিধ কারণে আজ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতামূলক নিকটতম দেশগুলোর সঙ্গে রপ্তানিতে এগিয়ে যেতে পারছে না।’
মুর্শেদী যে দাবিগুলো তুলে ধরেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- রপ্তানি আয়ে উৎসে কর শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বহাল রাখা, মূলধনী যন্ত্র আমদানিতে আগের মতো শূন্য শতাংশ শুল্ক বহাল রাখা, ২০০৮ সালের পর থেকে বকেয়া ভ্যাট তুলে নেয়া, ইউরো জোনে রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ প্রণোদনা দেয়া।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিজিএপিএমইএ সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরি, বিকেএমই’র সহসভাপতি আসলাম সানী, এফবিসিসিআয়ের প্রথম সহ-সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমই’র দ্বিতীয় সহ-সভাপতি এম এ মান্নান কচি প্রমুখ।

