ঢাকাTuesday , 16 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মানবপাচারের মূল ঘাঁটি ফাঁসিয়াখালী

Link Copied!

manবান্দরবান প্রতিনিধি : মানবপাচারের মূল ঘাঁটি হিসেবে বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ব্যবহার করছেন পাচারকারীরা। গত ছয় মাসে এসব এলাকা থেকে সাগরপথে দুই শতাধিক লোক পাচার হয়েছে। পাচার হওয়া অভিবাসীদের অধিকাংশের এখনও কোনো হদিস মেলেনি। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তাও অজানা।
উপজেলার লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা বাজার, বড়ছনখোলা, হিমছড়ি, কুমারী, কাঁঠালছড়া, ঠাণ্ডাছড়া, হারগাজা, বদুরঝিরি, গুলিস্থান বাজার, বনফুর, পুড়ারঝিরি, ভিলেজার পাড়া, মেম্বার পাড়া ও শামুকঝিরি এলাকা থেকে দালালদের মাধ্যমে দফায় দফায় মালয়েশিয়ায় মানবপাচার হয়েছে।
এর মধ্যে ইয়াংছা এলাকা থেকে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের শিকার হয়েছেন ৫৫ জন। মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা বজল আহমদ ও তার সহযোগিরা চার মাস আগে পাচার হওয়া অভিবাসীদের কাছ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন। পাচার হওয়া ব্যক্তিরা বর্তমানে মালয়েশিয়ার কারাগারে রয়েছেন দাবি করে স্বজনদের কাছ থেকে আরও দুই লাখ টাকা করে আদায় করে দালাল চক্রটি। এমনকি পাচার হওয়া ৫৫ জনের মধ্যে ২৫-৩০ জনের স্বজনদের কাছ থেকে সেখানে নির্যাতন থেকে রক্ষা পাওয়ার শর্তে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে।
তবে এসব অভিবাসীর ভাগ্যে বাস্তবে কী ঘটেছে তার কোন সঠিক তথ্যও মিলছে না। স্বজনরা দালালদের টাকা দিয়েও আপনজনদের খোঁজ না পাওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দারে দারে ঘুরছে।
পাচার হওয়া অভিবাসীদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, লামার ইয়াংছা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের ছেলে নবী হোসেন ও বেলাল হোসেনকে বজল দালাল নানা প্রভোলন দেখিয়ে এবং অর্থ উপার্জন নিশ্চিতের কথা দিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। তবে গত ৪ মাসেও বেলালের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানার সুযোগ হয়নি।
এ ব্যাপারে লামা থানায় মানবপাচারকারী চক্রের হোতা বজল আহমদসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। এরপর খানিকটা পুলিশি তৎপরতা বাড়লেও আসামিরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা মানবপাচারকারীদের গ্রেপ্তারের কোনো উদ্যোগ না নিয়ে বাদীকে উল্টো ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন।
তিনি আরও জানান, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর লামা থানায় মামলা করলেও সেটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয় গত ২২ ফেব্রুয়ারি। তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট মো. হারুন অর রশীদ অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশ সুপারকে অনুরোধ জানিয়ে গত ৫ মার্চ চিঠি দিয়েছেন। এ মামলায় নবী হোসেন ও তার ছোট ভাই বেলাল হোসেনকে বিদেশে অর্থ উপার্জনের লোভ দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচার ও সেখানে নির্যাতন চলছে দাবি করে দফায় দফায় টাকা আদায় করেন বলে দালাল বজল আহমদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়। তবে মানব পাচারকারী চক্রের সহযোগিদের হুমকিতে তাদের মুখবন্ধ রয়েছে বলেও জানান মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন।
অভিযোগ রয়েছে, দালাল বজল আহমদ ও তার সহযোগিরা মালয়েশিয়ায় পাচার করা লোকদের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয়। পরে টেকনাফ হয়ে সাগর পথে তাদের পাঠানো হয় মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে।
পুলিশ জানায়, গত বছরের শেষ দিকে লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের লাদেনের বাগান থেকে ১৭ জনকে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতির সময় আটক করা হয়েছিল। এ সময় চার মানবপাচারকারীকেও আটক করা হয়। অবশ্য পরে তারা ছাড়া পেয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইয়াংছা এলাকার বাসিন্দারা জানান, ফাঁসিয়াখালীর বজল আহমদ, নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী রুবী আক্তার, আবু জাকের, মো. কাফি উদ্দিন, জমির উদ্দিন এবং চকরিয়ার মোজাফ্ফর, জসিম উদ্দিন ও আবদুস শুক্কুর মানব পাচারকারী চক্রের মূলহোতা। তবে তারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে থেমে নেই মানবপাচার।
এ ব্যপারে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, মানবপাচার ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।